" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকারের ভয়াবহ পতন: ‘মুক্তপতনে’ গণতন্ত্র, সতর্ক করল ITUC রিপোর্ট //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকারের ভয়াবহ পতন: ‘মুক্তপতনে’ গণতন্ত্র, সতর্ক করল ITUC রিপোর্ট

 



ধর্মঘট থেকে ট্রেড ইউনিয়ন—সব অধিকারই আক্রমণের মুখে, নজিরবিহীন দমন-পীড়নের অভিযোগ

রাঁচি, ঝাড়খণ্ড | ২৭ মে ২০২৬:
বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আজ এক গভীর সংকটের মুখে। শুধু শ্রমিক আন্দোলন নয়, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠিত প্রতিবাদের অধিকারও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (ITUC)-এর প্রকাশিত গ্লোবাল রাইটস ইনডেক্স ২০২৫ রিপোর্টে উঠে এসেছে এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বিস্ফোরক চিত্র—শ্রমিক অধিকার এখন কার্যত “মুক্তপতনে”।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ধর্মঘটের অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, যৌথ দরকষাকষি, প্রতিবাদ সংগঠিত করা—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে সরকারি ও কর্পোরেট দমন। ITUC-এর মতে, এই পরিস্থিতি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের সংগঠিত শক্তিকে দুর্বল করার এক সুসংগঠিত প্রবণতা।

ধর্মঘটের অধিকার ভাঙা হয়েছে ৮৭ শতাংশ দেশে

রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী—

  • ৮৭ শতাংশ দেশে ধর্মঘটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে

  • ৮০ শতাংশ দেশে যৌথ দরকষাকষির অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে

  • ৭৫ শতাংশ দেশে শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে

  • ৭৪ শতাংশ দেশে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনে প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে

  • ৪৫ শতাংশ দেশে মতপ্রকাশ ও জমায়েতের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে

ITUC স্পষ্ট জানিয়েছে, অনেক দেশে সংবিধান বা শ্রম আইনে অধিকার থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরা সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। কোথাও পুলিশি দমন, কোথাও জরুরি আইন, কোথাও কর্পোরেট হুমকি—সব মিলিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক দেশগুলিতেও বাড়ছে দমননীতি

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শ্রমিক অধিকার সংকট এখন আর শুধু স্বৈরাচারী বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো তথাকথিত “গণতান্ত্রিক” অঞ্চলগুলিও ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে খারাপ স্কোর করেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বহু দেশে “জাতীয় নিরাপত্তা”, “জরুরি পরিষেবা” বা “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা”-র অজুহাতে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, মোটা জরিমানা, এমনকি ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক শক্তির একাংশ শ্রমিক আন্দোলনকে “রাষ্ট্রবিরোধী” বা “উন্নয়ন বিরোধী” বলে প্রচার করছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলির মতে, এটি কেবল শ্রমিক অধিকারের উপর আঘাত নয়—এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরও সরাসরি হামলা।

শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ১০ দেশ

ITUC-এর তালিকায় ২০২৫ সালে শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে—

  • বাংলাদেশ

  • বেলারুশ

  • ইকুয়েডর

  • মিশর

  • এসওয়াতিনি

  • মায়ানমার

  • নাইজেরিয়া

  • ফিলিপিন্স

  • তিউনিসিয়া

  • তুরস্ক

বাংলাদেশে বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে ইউনিয়ন সংগঠনের চেষ্টায় শ্রমিকদের উপর হামলা, হুমকি ও কালো তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ সামনে এসেছে। মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বহু শ্রমিক নেতা গ্রেফতার, নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। মিশরে শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নাইজেরিয়ার নতুন করে এই তালিকায় উঠে আসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ITUC। কারণ এটি দেখাচ্ছে, সক্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন ঐতিহ্য থাকা দেশেও দ্রুত শ্রমিক অধিকার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধ, সংঘাত ও শ্রমিক অধিকারের সম্পূর্ণ পতন

রিপোর্টে ১২টি দেশকে “৫+” রেটিং দেওয়া হয়েছে—যেখানে কার্যত আইনের শাসনই ভেঙে পড়েছে। আফগানিস্তান, সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, হাইতি, প্যালেস্টাইন-সহ এই দেশগুলিতে শ্রমিকদের কোনও কার্যকর অধিকার নেই বললেই চলে।

এই দেশগুলিতে শ্রমিক নেতা ও ইউনিয়ন কর্মীরা খুন, গুম, নির্বিচার গ্রেফতার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। বহু জায়গায় ট্রেড ইউনিয়ন কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

কর্পোরেট মুনাফা বনাম শ্রমিক অধিকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকারের উপর এই আক্রমণের পেছনে রয়েছে কর্পোরেট মুনাফাকেন্দ্রিক অর্থনীতি, অনিশ্চিত চাকরি, গিগ ইকোনমির প্রসার এবং শ্রম আইন শিথিল করার প্রবণতা। অনেক সরকারই বিদেশি বিনিয়োগ টানার নামে শ্রমিক অধিকারকে দুর্বল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও নজর রাখা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় সতর্কবার্তা

ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এই রিপোর্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও মায়ানমারের পরিস্থিতি গোটা অঞ্চলের শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে ভারতে শ্রম আইন সংশোধন, চুক্তিভিত্তিক কাজের বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা সংকোচন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলির মতে, যদি এখনই আন্তর্জাতিক স্তরে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে আগামী দিনে শ্রমিকদের সংগঠিত আন্দোলনের পরিসর আরও সংকুচিত হবে।

“এটি শুধু শ্রমিক সংকট নয়, গণতন্ত্রের সংকট”

ITUC-এর বক্তব্য, শ্রমিক অধিকার ও গণতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখন ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রতিবাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়। যখন ট্রেড ইউনিয়ন দমন করা হয়, তখন সমাজের সংগঠিত বিরোধী কণ্ঠস্বরকেও দুর্বল করা হয়।

সংগঠনটির সতর্কবার্তা—যদি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক চাপ, আইনি সুরক্ষা এবং বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার রক্ষা না করা যায়, তবে বিশ্ব আরও গভীর সামাজিক বৈষম্য, অস্থিরতা এবং গণতান্ত্রিক সংকটের দিকে এগোবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies