" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory হিন্দু দলিত যুবকের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

হিন্দু দলিত যুবকের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম



নয়াদিল্লি, ৬ জুন: দেশের শিক্ষিত যুবসমাজের একাংশের মধ্যে নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন মহারাষ্ট্রের তরুণ দলিত কর্মী ও ডিজিটাল অ্যাক্টিভিস্ট অভিজিৎ দীপকে। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি নিজের দলিত পরিচয় প্রকাশ্যে আনার পর অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে জাতিগত কটূক্তি ও আক্রমণের মুখে পড়েন। তবে সেই বিতর্কই তাঁর আন্দোলনকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে। সমর্থকদের দাবি, এই ঘটনা ভারতের সমাজে এখনও বিদ্যমান জাতিগত বৈষম্যের বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির সূচনা হয়েছিল বেকার যুবকদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনের উদ্যোক্তারা সেই অপমানজনক অভিধাকেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করেন। সংগঠনটির মূল বার্তা— জাতপাত, ধর্ম বা দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বেকারত্ব, শিক্ষার সংকট এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার যুবক এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থী এবং তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রচার, মিম-ভিত্তিক রাজনৈতিক বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে সংগঠনটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

অভিজিৎ দীপকের শিক্ষাগত ও পেশাগত পটভূমিও অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করছে। সাংবাদিকতা ও জনসংযোগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তরুণ অতীতে রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সমর্থকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন দলিত সমাজের প্রশ্নকে নতুন প্রজন্মের ভাষায় তুলে ধরছে।

গত কয়েক দিনে দিল্লির যন্তর মন্তর-এ অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে পরীক্ষায় অনিয়ম ও বেকারত্বের প্রশ্নকে সামনে আনা হয়। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা নীতির দাবি জানান।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারতের দলিত আন্দোলনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর এবং জ্যোতিরাও ফুলে-এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরা। বর্তমান প্রজন্মের কিছু দলিত যুবক সেই ঐতিহ্যকে ডিজিটাল যুগের নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও সাংগঠনিক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টি এখনও মূলধারার রাজনৈতিক শক্তি না হলেও, এটি যুবসমাজের ক্ষোভ, হতাশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে প্রকাশ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা সময়ই বলবে। তবে শিক্ষিত তরুণদের একাংশ যে সামাজিক ন্যায়, সমতা এবং মর্যাদার প্রশ্নে নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies