" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব জালিয়াতির অভিযোগ! রাজেশ এক্সপোর্টস ও প্রোমোটার রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে সেবির নজিরবিহীন পদক্ষেপ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব জালিয়াতির অভিযোগ! রাজেশ এক্সপোর্টস ও প্রোমোটার রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে সেবির নজিরবিহীন পদক্ষেপ



মুম্বই, ৬ জুন ২০২৬: ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণালঙ্কার ও স্বর্ণ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড (REL) এবং তার প্রোমোটার-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেছে। ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সেবির পূর্ণকালীন সদস্য কমলেশ চন্দ্র বর্শ্ণেয়ের স্বাক্ষরিত ১০৯ পৃষ্ঠার একতরফা (Ex-Parte Interim) আদেশে কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল রাজস্ব বিকৃতি, তহবিল অপব্যবহার, কর্পোরেট সুশাসনের ব্যর্থতা, তথ্য গোপন এবং তদন্তে অসহযোগিতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব বিকৃতি

সেবির তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে যে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজেশ এক্সপোর্টস প্রায় ১৫,১৫,৩৮৫ কোটি টাকা (১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা) একীভূত রাজস্ব (Consolidated Revenue) ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এই অঙ্ক কোম্পানির ওই সময়ের মোট ঘোষিত একীভূত রাজস্বের প্রায় ৯৭ শতাংশ থেকে ৯৯.৮ শতাংশ

সেবির দাবি, এই বিপুল রাজস্বের অধিকাংশই দেখানো হয়েছে বিদেশি সহযোগী ও ধাপভিত্তিক (step-down) সংস্থাগুলির মাধ্যমে, বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্বর্ণ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান Valcambi SA, যা ২০১৫ সালে রাজেশ এক্সপোর্টস অধিগ্রহণ করেছিল। এছাড়াও Global Gold Refineries AG-এর মতো সংস্থার নামও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, Valcambi SA এবং অন্যান্য বিদেশি সহযোগী সংস্থার নিরীক্ষিত পৃথক আর্থিক বিবরণীতে যে রাজস্বের উল্লেখ রয়েছে, তা কোম্পানির একীভূত হিসাবপত্রে দেখানো বিপুল অঙ্কের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। সেবি দাবি করেছে, বহু ক্ষেত্রে কোনও ইনভয়েস, প্রকৃত ক্রেতার তথ্য, মজুতের রেকর্ড কিংবা নির্ভরযোগ্য লেনদেনের নথি পাওয়া যায়নি।

সন্দেহজনক বিদেশি স্বর্ণ বাণিজ্য

সেবির মতে, বহু বিদেশি স্বর্ণ লেনদেন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যকলাপের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম, বৃত্তাকার (circular) অথবা কাল্পনিক লেনদেন দেখিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়া স্বর্ণ পরিশোধন শিল্পে যেখানে সাধারণত কেবল মার্জিন বা মূল্য সংযোজনকে আয় হিসেবে ধরা হয়, সেখানে সম্পূর্ণ লেনদেনমূল্য (Gross Transaction Value) রাজস্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মূল কোম্পানির হিসাবেও অনিয়ম

সেবির তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ১২,৫৫৭ কোটি টাকার স্ট্যান্ডঅ্যালোন রাজস্ব ভুলভাবে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজেশ মেহতার ব্যক্তিগত স্বর্ণ ডেরিভেটিভ ট্রেডিংকে কোম্পানির বিক্রয় ও ক্রয় হিসেবে দেখানো হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় প্রায় ১১,৪৮৭ কোটি টাকার বিক্রয় এবং ১১,৪৮৮ কোটি টাকার ক্রয় কৃত্রিমভাবে হিসাবপত্রে যুক্ত করা হয়।

এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা থেকে হওয়া লাভ এবং সুদের আয়কে ব্যবসায়িক রাজস্ব হিসেবে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

৯২৬ কোটি টাকার তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগ

সেবির আদেশে তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর।

তদন্তে দাবি করা হয়েছে, কোম্পানির ৩৩৯ কোটি টাকা সরাসরি রাজেশ মেহতার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল, যা পরে এমসিএক্সে (MCX) স্বর্ণ ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া প্রোমোটার-সংযুক্ত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯২৬ কোটি টাকা যথাযথ বোর্ড বা অডিট কমিটির অনুমোদন ছাড়াই স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ। এই লেনদেনগুলির মধ্যে Elest-এর মতো সংস্থার নামও উঠে এসেছে।

সেবির মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের (Related Party) লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

কর্পোরেট সুশাসনের গুরুতর ব্যর্থতা

সেবি অভিযোগ করেছে যে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের ব্যবসার প্রকৃত আকার ও আর্থিক অবস্থার একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরেছে।

তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, আফ্রিকার স্বর্ণখনিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কিছু তথ্যও বিভ্রান্তিকর বা অসত্য হতে পারে। বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির আর্থিক বিবরণী প্রকাশ না করা, অপর্যাপ্ত একীভূত হিসাবরক্ষণ এবং তদন্তকারীদের কাছে পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ

সেবির বক্তব্য, রাজেশ এক্সপোর্টস তদন্ত চলাকালীন পূর্ণাঙ্গ একীভূত আর্থিক তথ্য সরবরাহ করেনি এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।

আদেশে সেবি এই অনিয়মগুলিকে “অত্যন্ত গুরুতর এবং প্রায় নজিরবিহীন” বলে উল্লেখ করেছে। প্রমাণ নষ্ট হওয়া বা সম্পদ সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনার কারণেই পূর্ব শুনানি ছাড়াই অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে।

সেবির অন্তর্বর্তী নির্দেশ

সেবি রাজেশ মেহতাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

কোম্পানিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত নথি জমা দিতে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে এবং ভবিষ্যতে সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরীক্ষকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি জাতীয় আর্থিক প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষ (NFRA)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা

সেবির আদেশ প্রকাশ্যে আসার পর রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার তীব্র পতনের মুখে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেয়ারটির মূল্য পূর্ববর্তী স্তর থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে এবং একাধিক সেশনে লোয়ার সার্কিটে আটকে যায়।

এর ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজারমূল্য মুছে গেছে। সংস্থার অন্যতম বড় শেয়ারহোল্ডার এলআইসি (LIC) এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

কোম্পানির পাল্টা দাবি

রাজেশ এক্সপোর্টস এবং রাজেশ মেহতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এটি কেবলমাত্র একটি অন্তর্বর্তী আদেশ এবং এতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

রাজেশ মেহতা দাবি করেছেন, “কোম্পানির ঘোষিত রাজস্বে কোনও ভুল নেই।” তাঁর মতে, সেবি সম্ভবত Valcambi SA-এর EBITDA এবং মোট রাজস্বের মধ্যে পার্থক্য সঠিকভাবে বিবেচনা করেনি। স্বর্ণ পরিশোধন শিল্পের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

কোম্পানি জানিয়েছে, তারা সেবির কাছে সমস্ত ব্যাখ্যা ও নথিপত্র জমা দেবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের পরিমাণ এতটাই বড় যে এটি ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আর্থিক তদন্তে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব দেখানো, অথচ তার সমর্থনে যথাযথ নথি না থাকা—এটি নিয়ন্ত্রকদের কাছে বড় সতর্কবার্তা।

একই সঙ্গে এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী সহযোগী সংস্থাগুলির একীভূত হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষকদের ভূমিকা এবং প্রোমোটার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলির কর্পোরেট সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে উল্লেখ্য, সেবির সমস্ত পর্যবেক্ষণই বর্তমানে প্রাথমিক বা Prima Facie পর্যায়ের। আগামী দিনে কোম্পানির জবাব, ফরেনসিক অডিট এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies