দুর্গাপুর, ২ জুন: দুর্গাপুর ইস্পাত অঞ্চলে উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযানকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে উচ্ছেদ ও ভাঙার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সিআইটিইউ-এর ডাকে দুর্গাপুর ইস্পাত প্রশাসনিক ভবন তথা টাউন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল শহরের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভাঙতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আজকের বিক্ষোভে শ্রমিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, হকার, ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় এবং শ্রমিক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব। বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনও নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করে ভাঙার আগে শ্রমিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। তা না করে প্রশাসন যদি একতরফাভাবে পদক্ষেপ করে, তাহলে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।সভায় বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর পূর্বের এবারের নির্বাচনের বাম প্রার্থী ও শ্রমিক নেতা সীমান্ত চ্যাটার্জি।
বিক্ষোভ চলাকালীন একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, আলোচনা ও সমঝোতা ছাড়া কোনও রকম ভাঙচুর বা উচ্ছেদ অভিযান মেনে নেওয়া হবে না। মানুষের জীবিকা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এই বিক্ষোভ ঘিরে ইস্পাত অঞ্চলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দুর্গাপুরে বামপন্থীদের এটি অন্যতম বড় কর্মসূচি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে এই ইস্যুকে ঘিরে আন্দোলনের বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষকদের মত।














