নিউজ ডেস্ক | ২ জুন, ২০২৬
আজ বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী Marilyn Monroe-এর জন্মের ১০০ বছর পূর্তি। ১৯২৬ সালের ১ জুন নর্মা জিন মর্টেনসন নামে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে অধিকাংশ মানুষ আজও মূলত সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের প্রতীক হিসেবেই স্মরণ করেন। তবে তাঁর জন্মশতবর্ষে নতুন করে সামনে আসছে তাঁর রাজনৈতিক চেতনা, সামাজিক অবস্থান এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতার ইতিহাস।
ব্রিটেনের Communist Party of Britain এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মেরিলিন মনরোকে শুধুমাত্র ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে দেখানো তাঁর জীবনের একটি অসম্পূর্ণ ও বিকৃত উপস্থাপনা। তাদের মতে, তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, সমাজ-সচেতন এবং প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ, যার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল শৈশবের দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা এবং শ্রমজীবী জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা মনরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি অস্ত্র উৎপাদন কারখানায় কাজ করেছিলেন। সেই শ্রমজীবী অভিজ্ঞতাই তাঁর শ্রেণিচেতনার ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখে বলে মত ইতিহাসবিদদের একাংশের।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)-এর প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, মনরোর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও মতাদর্শ নিয়ে দীর্ঘদিন নজরদারি চালানো হয়েছিল। তিনি মার্কসবাদী সাহিত্য পড়তেন এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট। খ্যাতনামা আফ্রিকান-আমেরিকান গায়িকা Ella Fitzgerald-এর পেশাগত জীবনে সুযোগ সৃষ্টির জন্য মনরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকার্থি যুগের রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় কালো তালিকাভুক্ত নাট্যকার Arthur Miller-কে বিয়ে করে তিনি বিতর্ক ও চাপের মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
নারীবাদী বিশ্লেষকদের মতে, মনরোর জীবন ছিল পুঁজিবাদী বিনোদন শিল্পে নারীর শোষণের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তাঁর জনপ্রিয়তা ও শ্রমকে বারবার পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, তিনি সেই কাঠামোর বিরুদ্ধে নিজের স্বাধীন সত্তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন।
জন্মশতবর্ষে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহল তাঁকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের মতে, মেরিলিন মনরো শুধুমাত্র হলিউডের এক তারকা নন; তিনি ছিলেন এমন এক নারী, যাঁর জীবনে শ্রেণি সংগ্রাম, নারীমুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন একসূত্রে গাঁথা ছিল।
মৃত্যুর ছয় দশক পরও মেরিলিন মনরোর জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। তবে তাঁর জন্মশতবর্ষে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক জটিল, চিন্তাশীল এবং সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের ইতিহাস।


