মুম্বই | নিজস্ব প্রতিবেদন
ভারতের অন্যতম উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের ‘মিসিং লিঙ্ক’ প্রকল্প। মাত্র কয়েক মাস আগে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি এবং উন্নয়নের বড় প্রচারের পর এবার সেই প্রকল্পই তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে।
₹৬,৬৯৫ কোটি ব্যয়ে নির্মিত ১৩.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি চালু হয় ১ মে ২০২৬। লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে খন্ডালা ঘাটের দীর্ঘ যানজটের অবসান ঘটিয়ে মুম্বই-পুনে যাত্রাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করা।
কিন্তু উদ্বোধনের নয় সপ্তাহও পেরোতে না পেরোতেই প্রকল্পের একটি অংশে বড় ধাক্কা লাগে।
কী ঘটেছে?
৬ জুলাই ২০২৬, পশ্চিমঘাটে টানা ভারী বর্ষণের জেরে একটি ভূমিধস ঘটে। এতে একটি রিটেইনিং ওয়ালের ক্ষতি হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তার একাংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (MSRDC) জানিয়েছে, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Act of God) এবং মূল টানেল বা সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক নাগরিক ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ। প্রশ্ন উঠছে—যে প্রকল্প বিশেষভাবে পশ্চিমঘাটের প্রবল বর্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে, সেখানে এত দ্রুত এমন ক্ষতি কীভাবে সম্ভব হলো?
প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মোট দৈর্ঘ্য: ১৩.৩ কিমি
- মোট ব্যয়: প্রায় ₹৬,৬৯৫ কোটি
- উদ্বোধন: ১ মে ২০২৬
- বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এশিয়ার সবচেয়ে চওড়া (২৩ মিটার) টুইন টানেল
- উদ্দেশ্য: খন্ডালা ঘাটের যানজট এড়িয়ে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা
বর্তমানে পুরনো ঘাট রাস্তায় প্রতিদিন প্রায় ৭৫,০০০ যানবাহন চলাচল করে এবং বর্ষায় বহু ঘণ্টার যানজট নিত্য সমস্যা।
ঠিকাদার সংস্থাগুলিকে ঘিরেও প্রশ্ন
প্রকল্পের কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল দুই বড় নির্মাণ সংস্থার মধ্যে।
Navayuga Engineering Co. Ltd. টানেল নির্মাণের দায়িত্বে ছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি অতীতে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে ₹৪৫ কোটি অনুদান দিয়েছিল।
অন্যদিকে Afcons Infrastructure Ltd., যারা ভায়াডাক্ট নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অতীতে সমৃদ্ধি মহামার্গ প্রকল্পে মুরুম উত্তোলন সংক্রান্ত ₹২৪৪ কোটির বেশি জরিমানার আদেশ জারি হয়েছিল। যদিও সেই আদেশ পরে বোম্বে হাইকোর্ট স্থগিত রাখে।
এই ঘটনাগুলির সঙ্গে বর্তমান ক্ষতির কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সরকারি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একাংশ প্রকল্পের গুণমান ও তদারকি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন।
এখন কী?
সরকারের দাবি, প্রধান টানেল ও সেতুগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছে। কিন্তু এত বিপুল অর্থে নির্মিত এই প্রকল্পে এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতি দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান, পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
বর্ষা এখনও বাকি। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহই বলে দেবে—ভারতের অন্যতম ব্যয়বহুল এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প প্রকৃতির কঠিন পরীক্ষায় কতটা সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে।


