বারুইপুর: বারুইপুরের সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া লাহেক আলীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানালেন বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, "বারুইপুরের জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোথায় উস্কানি ছিল?" তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ অযথা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
সুজন চক্রবর্তী আরও দাবি করেন, গ্রেফতার হওয়া লাহেক আলী (স্ট্রাইপ জামা পরিহিত) বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কথায়, "যিনি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছিলেন, তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। লাহেক আলীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।"
এদিন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান সুজন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, "এই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসক সমস্ত প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিতে চাইছে। সরকার যাকে দোষী মনে করবে সে দোষী, যাকে নির্দোষ মনে করবে সে নির্দোষ। নিজেদের দলের লোক হলে সাত খুন, ধর্ষণও মাফ—এভাবে আইন চলতে পারে না। এই গুন্ডারাজ চলতে পারে না।"
উল্লেখ্য, বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জোরালো হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে লাহেক আলীকে গ্রেফতারের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


