" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রয়াত কমরেড সুকুমার সিনহার স্মরণ সভা, ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের ডাক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রয়াত কমরেড সুকুমার সিনহার স্মরণ সভা, ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের ডাক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের

 



দুর্গাপুর, ১২ জুলাই: ডিভিসি, ডিএসটিপিএস রিক্রিয়েশন ক্লাবে ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নের (সিআইটিইউ ও ইইএফআই) উদ্যোগে প্রয়াত শ্রমিক নেতা কমরেড সুকুমার সিনহার স্মরণে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘদিনের এই সংগঠকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শ্রমিক, ইউনিয়ন কর্মী, গণসংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



সভার সূচনায় প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপস্থিত সকলেই নীরবতা পালন করে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,




শ্রমিক নেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী, ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতা জীবন আইচ, প্রাক্তন মহানাগরিক রথীন রায়,বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিজিৎ রায়, বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধি এবং প্রয়াত নেতার পরিবারের সদস্যরা।





স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, কোনো নেতার স্মরণসভা কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাঁর কথায়, "স্মরণ সভা তখনই সার্থক, যখন সেই সভা থেকে আগামী দিনের সংগ্রামের নতুন দিশা খুঁজে পাওয়া যায় এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই আরও শক্তিশালী হয়।"




তিনি শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার বিষয় তুলে ধরে বলেন, বহু কর্মী পদোন্নতি, ন্যায্য সুযোগ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বঞ্চিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।





বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে যাঁদের চাকরি রয়েছে এবং যাঁরা বিভিন্ন কারণে বঞ্চনার শিকার—এই দুই অংশের শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন দূর করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনই শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার একমাত্র কার্যকর পথ, এবং সব স্তরের শ্রমজীবী মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে সংগঠিত করতে পারলেই প্রকৃত সংগ্রাম শক্তিশালী হবে।




তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কমরেড সুকুমার সিনহার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর আদর্শকে জীবন্ত রাখতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে নয়, ন্যায়ের দাবিতে সংগ্রামরত সব মানুষকে একত্রিত করাই হবে তাঁর স্মৃতির প্রতি সর্বোত্তম সম্মান।"





স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়, বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, কমরেড সুকুমার সিনহা ছিলেন শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন এক সংগ্রামী নেতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি শ্রমিক স্বার্থে অবিচল থেকেছেন এবং তাঁর আদর্শ আগামী প্রজন্মের শ্রমিক আন্দোলনের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।





স্মরণ সভার সাংস্কৃতিক পর্বে গণসংগীত পরিবেশন করেন হিন্দুস্তান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক শাখা ‘সেতু’ এবং দুর্গাপুরের ইস্পাত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘লহরী’। তাঁদের পরিবেশনায় সভায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত সকলে শিল্পীদের অভিনন্দন জানান।




উল্লেখ্য, কমরেড সুকুমার সিনহার জন্ম ২১ ডিসেম্বর ১৯৪০ এবং তিনি ১৫ জুন ২০২৬ প্রয়াত হন। বক্তারা তাঁর সংগ্রামী জীবন, শ্রমিক শ্রেণির প্রতি অঙ্গীকার এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠাকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies