অসলো, নরওয়ে: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর দেশে ফিরেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেল নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। রাজধানী অসলোর রয়্যাল প্যালেসের সামনে সোমবার প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ সমর্থক লাল-সাদা-নীল রঙে সেজে তাদের বরণ করে নেন। দলের সম্মানে আয়োজিত হয় নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী "ভাইকিং রো" উদযাপন, যেখানে খেলোয়াড়, সমর্থক এবং রাজপরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নেন।
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন নিজে নরওয়ের স্কার্ফ পরে ঢাক বাজিয়ে এবং প্রাসাদের সিঁড়িতে বসা ফুটবলারদের সঙ্গে সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী বৈকিং নৌকা চালানোর ভঙ্গিতে নেতৃত্ব দেন। এই অনন্য উদযাপন নরওয়ের ঐক্য, শক্তি এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
এর আগে রাজা হ্যারাল্ড, প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা এবং প্রিন্স স্ভেরে ম্যাগনুস রাজপ্রাসাদে পুরো দলকে সংবর্ধনা জানান। পরে একটি ওপেন-টপ বাসে করে খেলোয়াড়দের নিয়ে অসলো শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয় এবং সিটি হলে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শেষ ষোলোতে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়। শেষ আটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে পরাজিত হলেও দলের লড়াকু ফুটবল দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই নরওয়ের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, রয়্যাল প্যালেস চত্বর ও আশপাশের এলাকা সমর্থকদের ঢলে ভরে গেছে। খেলোয়াড়রা সমর্থকদের সঙ্গে স্লোগান দেন এবং ঐতিহ্যবাহী "ভাইকিং রো" উদযাপনে অংশ নেন। পরাজয়ের পরও এমন উচ্ছ্বাস গোটা দেশের ফুটবলপ্রেম এবং জাতীয় সংহতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদযাপনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একাধিক পোস্টে লেখা হয়েছে, "এটাই নরওয়ে—পরাজয়েও গর্ব, ঐক্য আর ভালোবাসা।"
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপ অভিযান নরওয়ের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছে। দলের গভীরতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ কৌশল এবং তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসই এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের মূল কারণ। আগামী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে নরওয়ের সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন অনেক বেড়ে গেছে।
দেশে ফিরে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার আগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সর্বত্র বীরের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। নরওয়ের ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ অভিযান ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিল।



