" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন! ওয়ারজাবাল–পোরোর জোড়া আঘাতে ডালাসে ইতিহাস, ১৬ বছর পর শিরোপার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন! ওয়ারজাবাল–পোরোর জোড়া আঘাতে ডালাসে ইতিহাস, ১৬ বছর পর শিরোপার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল

 


ভিউজ নাউ স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও স্প্যানিশ জাদু। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংগঠিত ফুটবল, দুর্দান্ত রক্ষণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতায় বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা দেখিয়ে দিল কেন তারা এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল।



২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছর কেটে গেছে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল লা রোহা। এখন আর মাত্র একটি ম্যাচের দূরত্বে বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুটবল সম্মান।


শুরু থেকেই জমে ওঠে সেমিফাইনাল


দুই দলেরই আক্রমণভাগে ছিল বিশ্বের সেরা তারকাদের উপস্থিতি। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলার। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই।


ফ্রান্স প্রথম দিকে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও স্পেন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসে। মাঝমাঠে রদ্রি ও তার সতীর্থদের নিখুঁত পাসিং এবং দ্রুত বলের আদান-প্রদান ফরাসি রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে।



পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় স্পেন


২২তম মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম বড় মুহূর্ত। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল বক্সের ভিতরে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।


স্পট কিক নিতে আসেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। কোনো ভুল না করে শান্ত মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় স্প্যানিশদের, আর চাপ বাড়তে থাকে ফ্রান্সের ওপর।



এমবাপ্পেদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ


গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে ও তাদের সতীর্থরা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন। কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ যেন ছিল অদম্য প্রাচীর।


গোলরক্ষক উনাই সিমোন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। অন্যদিকে মার্ক কুকুরেয়া ও স্পেনের ডিফেন্ডাররা এমবাপ্পেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখেন। ফ্রান্স বলের দখল ও আক্রমণে লড়াই করলেও গোলের দেখা পায়নি।



পেদ্রো পোরোর গোলেই নিশ্চিত ফাইনাল


দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ফ্রান্স। কিন্তু আক্রমণে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগায় স্পেন।


৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু পাস খেলে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন পেদ্রো পোরো। নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এই গোলের পর ম্যাচ কার্যত স্পেনের নিয়ন্ত্রণেই চলে যায়।


শেষ আধঘণ্টায় ফ্রান্স মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা চালালেও স্পেনের রক্ষণভাগ তাদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়।


পরিসংখ্যানে কী বলছে ম্যাচ?


ম্যাচে বলের দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল স্পেন।


- বল দখল: স্পেন ৫১%, ফ্রান্স ৪৯%

- মোট শট: ফ্রান্স ১৪, স্পেন ১০

- লক্ষ্যে শট: ফ্রান্স ৪, স্পেন ২

- ফাউল: ফ্রান্স ১১, স্পেন ১২

- কর্নার: ফ্রান্স ৭


পরিসংখ্যানে ফ্রান্স বেশি শট নিলেও স্পেন ছিল অনেক বেশি কার্যকর। সুযোগ তৈরি এবং সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করার দক্ষতাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।


২০১০-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে স্পেন


এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে রয়েছে স্পেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের দুর্দান্ত সমন্বয়, দ্রুত পাসিং ফুটবল এবং শক্তিশালী রক্ষণ তাদের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।


২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার আবারও সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে গোটা স্পেন। দেশের কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন ফাইনালের দিকে।


এবার অপেক্ষা মহারণের


এই জয়ের ফলে ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে খেলবে স্পেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী।


বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তোলার লড়াইয়ে এখন আর মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে লা রোহা। ডালাসে দুর্দান্ত এই জয়ের পর স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল স্পেন—২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার তারাই

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies