" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই! ভারতের উচ্চশিক্ষার সংকট কি অর্থনীতির অঘোষিত বিপদ? (পর্ব–১) //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই! ভারতের উচ্চশিক্ষার সংকট কি অর্থনীতির অঘোষিত বিপদ? (পর্ব–১)

 




সরকারি রিপোর্টই দেখাচ্ছে শিক্ষিত বেকারত্বের কঠিন বাস্তব, প্রশ্নের মুখে কর্মসংস্থানের নীতি 

লেখক: Sankar Pal (Independent Blogger )

ভারত আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির অন্যতম। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল বিপ্লব, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বারবার তুলে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে অর্থমন্ত্রী—সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায়ই দাবি করেন, ভারত "অমৃত কালের" পথে এগোচ্ছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

কিন্তু অর্থনীতির এই উজ্জ্বল ছবির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—উচ্চশিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান সংকট।

সরকারের নিজের Economic Survey এবং Periodic Labour Force Survey (PLFS)-এর পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছেন না। অনেকেই বছরের পর বছর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ অস্থায়ী কাজে যোগ দিচ্ছেন, আবার অনেকে শ্রমবাজার থেকেই বেরিয়ে যাচ্ছেন। (India Budget)


সরকারি দাবি বনাম সরকারি তথ্য

গত কয়েক বছরে কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবি করেছে যে ভারতের শ্রমবাজার শক্তিশালী হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী—

  • ২০২৩-২৪ সালে সামগ্রিক বেকারত্বের হার (১৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

  • ২০২৫ সালের PLFS রিপোর্ট অনুযায়ী শিক্ষিতদের (Secondary ও তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা) বেকারত্বের হারও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

  • যুব বেকারত্বেও সামান্য উন্নতির দাবি করা হয়েছে। (Press Information Bureau)

প্রথম দেখায় ছবিটি আশাব্যঞ্জক মনে হলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু সামগ্রিক বেকারত্বের হার দেখলে বাস্তব চিত্র ধরা পড়ে না।

কারণ, ভারতের শ্রমবাজারে "চাকরি" বলতে এমন অনেক কর্মসংস্থানকেও ধরা হয় যেখানে সপ্তাহে খুব অল্প সময় কাজ করলেও একজনকে কর্মরত হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে বেকারত্ব কমলেও কাজের গুণমান (Quality of Employment), আয়, চাকরির স্থায়িত্ব এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর সেই পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না। (Microdata)


সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়: শিক্ষিতরাই বেশি সমস্যায়

Economic Survey-এ কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ অধ্যায়ে একটি মৌলিক সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে—শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্য।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • উচ্চশিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

  • শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো বিষয়বস্তুর মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে।

  • শুধু ডিগ্রি থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। (India Budget)

আপনার শেয়ার করা গবেষণা-সারাংশেও একই বিষয় উঠে এসেছে—জাতীয় গড়ের তুলনায় স্নাতকদের বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং বহু তরুণ দীর্ঘ সময় চাকরির অপেক্ষায় থাকছেন।


প্রশ্ন একটাই: তাহলে সমস্যা কোথায়?

ভারত প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করছে।

AISHE (All India Survey on Higher Education)-এর তথ্য অনুযায়ী—

  • গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

  • উচ্চশিক্ষায় ভর্তি (Gross Enrolment Ratio) ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থাৎ শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে।

কিন্তু একই গতিতে কি চাকরি বেড়েছে?

সেখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও "Jobless Growth" বা "Employment-light Growth"-এর বৈশিষ্ট্য এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

অর্থাৎ—

অর্থনীতি বাড়ছে,

বিনিয়োগ বাড়ছে,

জিডিপি বাড়ছে,

কিন্তু সেই অনুপাতে স্থায়ী ও দক্ষতাভিত্তিক চাকরি তৈরি হচ্ছে না। (India Budget)


স্কিল ইন্ডিয়া—সাফল্য নাকি সীমাবদ্ধতা?

২০১৫ সালে চালু হওয়া Skill India Mission-এর লক্ষ্য ছিল কোটি কোটি যুবককে শিল্প-উপযোগী দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী—

  • PMKVY-এর আওতায় লক্ষ লক্ষ যুবক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

  • হাজার হাজার Skill Hub চালু হয়েছে।

  • নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। (Wikipedia)

কিন্তু প্রশ্ন হলো—

প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কতজন স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন?

এখানেই নীতিগত মূল্যায়নের প্রয়োজন।

কারণ প্রশিক্ষণের সংখ্যা বাড়া এবং কর্মসংস্থান বাড়া—এই দুই বিষয় এক নয়।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ভারতের স্কিলিং মডেল এখনও "Training-centric", কিন্তু পর্যাপ্ত "Employment-centric" নয়।


উৎপাদন শিল্প কেন এখনও পিছিয়ে?

চীন, দক্ষিণ কোরিয়া বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলিতে শিল্পায়নের মাধ্যমে কোটি কোটি শ্রমিক উৎপাদন খাতে যুক্ত হয়েছেন।

ভারতে পরিস্থিতি ভিন্ন।

Manufacturing এখনও জিডিপির তুলনায় সীমিত অবদান রাখে।

ফলে—

  • উচ্চশিক্ষিতদের জন্য পর্যাপ্ত মাঝারি ও উচ্চ দক্ষতার চাকরি তৈরি হচ্ছে না।

  • আবার কম দক্ষ কর্মীদের জন্যও বৃহৎ শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান গড়ে ওঠেনি।

এই দ্বৈত সংকটই ভারতের শ্রমবাজারকে জটিল করে তুলেছে। (India Budget)


শুধু বেকারত্ব নয়, আন্ডারএমপ্লয়মেন্টও বড় সমস্যা

অনেক তরুণ প্রকৌশলী, স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে এমন কাজ করছেন যার সঙ্গে তাঁদের শিক্ষার কোনও সম্পর্ক নেই।

কেউ ডেলিভারি কর্মী,

কেউ কল সেন্টারে,

কেউ অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে,

আবার কেউ সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে নিতে বহু বছর কর্মহীন।

সরকারি বেকারত্বের পরিসংখ্যানে এদের অনেকেই "কর্মরত" হিসেবে গণ্য হলেও, অর্থনীতিবিদরা এটিকে Underemployment বা দক্ষতার তুলনায় নিম্নমানের কর্মসংস্থান বলে চিহ্নিত করেন। (Microdata)


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies