নয়াদিল্লি:
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তাঁর অনশন আন্দোলনের ২১তম দিনে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ. প্রস্তাবিত 'সংসদ অভিযান' (Parliament March)-এর ঠিক দু'দিন আগে পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে.
ককরোচ জনতা পার্টির বিস্ফোরক অভিযোগ
এই আন্দোলনের সম্মুখভাগে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থকরা পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন. তাঁদের অভিযোগ:
সংসদ অভিযানের মাত্র দু'দিন আগে পুলিশ তাঁদের ওপর অত্যন্ত হিংস্র ও নির্মমভাবে চড়াও হয়েছে.
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগ করে তা বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন.
সিজেপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, দিল্লি পুলিশ তাঁকে মারধর করেছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন.
দিল্লি পুলিশের সাফাই ও 'প্রয়োজনীয় চিকিৎসা'
তবে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ. পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে:
সোনম ওয়াংচুক গত ২১ দিন ধরে অনশনে থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল.
চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে.
তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি ও 'প্রয়োজনীয় চিকিৎসার' (Essential Care) স্বার্থেই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে.
উত্তেজনা তুঙ্গে: পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে পুলিশের সাথে তাঁদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়.
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের অন্তর্ভুক্তি এবং দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিগত বিভিন্ন দাবিতে এই যুব আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছিল. সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তোলে. বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ও যন্তর মন্তর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।



