টানা সাতটি দিন... একবিন্দু অন্ন ঢোকেনি মুখে। ন্যায়ের দাবিতে তিল তিল করে শুকিয়ে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণগুলো। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা অনির্দিষ্টকালের অনশন এবার এক মর্মান্তিক মোড় নিল। রক্তে শর্করার মাত্রা হুড়মুড় করে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬ mg/dL-এ! আর পারল না শরীর। চরম আশঙ্কাজনক অবস্থায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলিকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হলো আরএমএল (RML) হাসপাতালে।
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে তখন ভারী হয়ে উঠেছে যন্তর মন্তরের বাতাস। সহযোদ্ধাকে যখন স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের চোখে একদিকে জল, অন্যদিকে বুকে প্রতিবাদের আগুন! দুর্বল শরীর আর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তারা ফের স্লোগান তুললেন। তাদের একটাই বজ্রকঠিন দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। সহপাঠীর এই করুণ পরিণতি তাদের দমাতে পারেনি, বরং আরও একজোট করেছে।
এক সহযোদ্ধা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে, কিন্তু যন্তর মন্তরের লড়াই থামেনি। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক-সহ আরও প্রায় দশজন লড়াকু প্রাণ এখনও মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। অনাহারে তাদেরও শরীর ভাঙছে, কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে আসছে, কিন্তু মনোবল অটুট। তারা শপথ নিয়েছেন— "দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই মাটি আমরা ছাড়ব না।"
কিন্তু যে রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে এই আর্তনাদ, তারা কোথায়? প্রশাসন যেন কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। দিনের পর দিন ছাত্রছাত্রীরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ সরকারের এই চরম নীরবতা আর নিষ্ক্রিয়তা যেন মানবিকতার সমস্ত সীমানাকে উপহাস করছে।
আন্দোলন আজ এক চূড়ান্ত ও শ্বাসরুদ্ধকর সন্ধিক্ষণে। চোখের সামনে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই করুন পরিণতি দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ ও সমর্থকরা। সবার মনে আজ একটাই কাতর প্রশ্ন— আর কত শরীর ভাঙলে, আর কত রক্ত জল হলে তবে ভাঙবে সরকারের ঘুম? অনশনরত এই মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য আজ চারিদিক থেকে প্রশাসনের কাছে এক মরিয়া আবেদন উঠে আসছে।


