নতুন সরকারের বয়স সবে দু'মাস। আর এরই মধ্যে রাজ্যে ঘটে গেল সপ্তম রোমহর্ষক ঘটনা। একদিকে ধর্ম ও আবেগের মোড়কে নতুন রাজনৈতিক আইকন প্রতিষ্ঠার আড়ম্বর, অন্যদিকে 'আইনশৃঙ্খলা' রক্ষার নামে বিধানসভায় কড়া আইন পাস— আর এই সবকিছুর আড়ালে নিভে গেল বারুইপুরের সূর্যপুর হাটে এক নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ। সাধারণ মানুষের মনে আজ একটাই প্রশ্ন, প্রশাসনের এই 'গুন্ডা দমন' আইন কি তবে কেবল গরিবের অধিকার হরণের হাতিয়ার?
বারুইপুরের বীভৎসতা: কোথায় গেল নিরাপত্তা?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানা এলাকার ধপধপি ২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাটে এক ৯ থেকে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে খাবার কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই শিশুটি। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে। কড়া আইনের হুমকি দেওয়া সরকার কি তবে ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ?
জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি
শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বাঁধ ভেঙে যায়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে:
পুলিশের ওপর হামলা: ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাতে অগ্নিসংযোগ করে।
গণপিটুনিতে মৃত্যু: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার জেরে গণপিটুনিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
এলাকা অবরুদ্ধ: গোটা সূর্যপুর হাট এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এবং ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
'গুন্ডা দমন' আইন বনাম বাস্তব পরিস্থিতি
রাজ্যে যখন একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন, ঠিক তখনই সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
| সরকারি উদ্যোগ | বাস্তব চিত্র | সাধারণ মানুষের প্রশ্ন |
| বিধানসভায় কড়া 'গুন্ডা দমন আইন' পাস। | বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও খুন; পুলিশের সামনেই গণপিটুনি। | এই আইন কি অপরাধীদের ভয় ধরাতে পেরেছে, নাকি কেবল বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার? |
| ধর্ম ও আবেগের মোড়কে রাজনৈতিক আইকন প্রতিষ্ঠা। | রাজ্যে দু'মাসের মধ্যে সপ্তম রোমহর্ষক ঘটনা। | কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গিমিক তৈরি কি মৃত শিশুর পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে পারবে? |
একদিকে যখন সরকারের শীর্ষ মহল থেকে কড়া হাতে অপরাধ দমনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই বারুইপুরের ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঠুনকো। রাজনৈতিক প্রতীক নির্মাণ ও আইন প্রণয়নের আড়ম্বরের মাঝে সূর্যপুর হাটের ওই রক্তস্নাত শৈশব প্রশাসনের দিকে এক জ্বলন্ত প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়ে গেল।


