দুর্গাপুর: প্রায় পাঁচ দশকের শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতি বহনকারী ABL (বর্তমানে GE গোষ্ঠীর অন্তর্গত) কারখানার ঐতিহ্যবাহী AVBEU (CITU) ইউনিয়ন অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি ভবন ভাঙার ঘটনা নয়, বরং শ্রমিকদের সংগঠিত আন্দোলন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ওপর আঘাত।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৫৮ সালে AVBEU (CITU)-এর প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর জরুরি অবস্থার কঠিন সময় অতিক্রম করে ১৯৭৭ সালে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই ঐতিহাসিক সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন AVB (বর্তমানে GE) কারখানার গেটে শ্রমিকদের রক্ত-ঘামের অনুদানে গড়ে ওঠে এই সিটু ইউনিয়ন অফিস।
ইউনিয়নের ইতিহাস অনুযায়ী, ABL-এর এই CITU ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন প্রয়াত জ্যোতি বসু। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে এই 'লাল বাড়ি' শুধু একটি অফিস ছিল না, বরং শ্রমিকদের অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
প্রবীণ শ্রমিকদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, ১৯৮০-এর দশকে দূর-দূরান্ত থেকে কাজে আসা বহু শ্রমিকের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ছিল এই ইউনিয়ন অফিস। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, কর্মসংস্থান, পরিবার চালানোর উপায় এবং শ্রমিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করত এই ভবন।
এছাড়াও ১৯৮৮ সালের কারখানা লকআউটের সময় হাজার হাজার শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছিল এই ইউনিয়ন অফিস। সেই কঠিন সময়ে শ্রমিকদের সংগঠিত রাখা, আইনি লড়াই এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ভবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি ইউনিয়নের।
বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন নেতৃত্বের বক্তব্য, "ডবল ইঞ্জিন সরকারের বুলডোজার একটি ভবন ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার লড়াইকে ভেঙে দিতে পারবে না।"
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, "আমরা অস্থির নই। আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা এবং সংগঠনের লড়াই আরও শক্তিশালী করেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।"
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।


