নিজস্ব প্রতিবেদন, ৯ জুলাই ২০২৬
রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় চমক—বিজেপির প্রার্থী তালিকা। যে দল দুর্নীতি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার সরব ছিল, তারাই এখন আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের ওপরই আস্থা রাখল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রার্থী তালিকায় বড় চমক ও প্রশ্ন
বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বারাইকের নাম। উল্লেখ্য যে, এই তিন নেতাই প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। অথচ, রাজ্য বিজেপির সভাপতি এর আগে বারবার সুর চড়িয়েছিলেন যে, দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়া হবে না, এমনকি কোনো পদও দেওয়া হবে না। কিন্তু বর্তমান তালিকায় তাঁদের নাম আসায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
কেন এই ক্ষোভ?
বিজেপির এই অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠছে:
আদর্শ বনাম বাস্তবতা: এক সময় যে নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, আজ তাঁরাই বিজেপির প্রার্থী—এই বৈপরীত্যে কর্মীদের মনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বামপন্থীদের কটাক্ষ: এই সুযোগে বামফ্রন্ট বিজেপিকে একহাত নিয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপির "দুর্নীতি বিরোধী" লড়াই আসলে লোক দেখানো, এবং আদতে তারা তৃণমূলের ‘দ্বিতীয় সংস্করণ’ হয়ে উঠেছে।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ: স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বহুদিনের পুরনো ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে প্রাক্তন তৃণমূলীদের টিকিট দেওয়া দলের অন্দরে ক্ষোভে এর ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির এই কৌশল তাদের কতটা লাভবান করবে, নাকি এই "দলবদলু" রাজনীতির কারণে নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ দলের ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে—এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।


