নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:
নির্বাচন কমিশন (ECI) ভবনের সামনে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ চলাকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি (M. A. Baby) সহ দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্তরের বামপন্থী নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদন’-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া একটি প্রতিবাদী পদযাত্রাকে আটকে দেয় পুলিশ এবং সেখান থেকেই নেতাদের বলপূর্বক আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক হওয়া বিশিষ্ট নেতৃত্ব ও সাংসদবৃন্দ
পাঁচটি প্রধান বামপন্থী দল—সিপিআই(এম), সিপিআই, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, রিভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (RSP) এবং অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক-এর তরফ থেকে আয়োজিত এই যৌথ কর্মসূচিতে একাধিক পলিটব্যুরো সদস্য ও লোকসভা/রাজ্যসভার সাংসদরা অংশ নেন। আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
- এম এ বেবি (সাধারণ সম্পাদক, সিপিআই-এম)
- বৃন্দা কারাট ও সুভাষিণী আলী (পলিটব্যুরো সদস্য, সিপিআই-এম)
- বি ভি রাঘবুলু ও আর অরুণ কুমার (পলিটব্যুরো সদস্য, সিপিআই-এম)
- ভি শিবদাসান ও এ এ রহিম (রাজ্যসভার সাংসদ, সিপিআই-এম)
- সুচেতা দে ও শ্বেতা রাজ (কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিপিআই-এমএল লিবারেশন)
- রাজীব ডিমরি (আরএসপি) এবং ধর্মেন্দ্র ভার্মা (ফরোয়ার্ড ব্লক)
আন্দোলনের মূল দাবি ও কারণ
বাম দলগুলোর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী চলা যৌথ প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরানো এবং ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। প্রতিবাদের মূল ৩টি পয়েন্ট:
- SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) অবিলম্বে বন্ধের দাবি:ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে দেশের একাধিক রাজ্যে গণহারে এবং বেআইনিভাবে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বাম নেতাদের দাবি।
তারা অবিলম্বে SIR প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার এবং যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের ভোটাধিকার পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। - প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ/পদত্যাগ:বাম দলগুলোর অভিযোগ, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ একপেশে ও ক্ষমতাসীন জোটের সুবিধা অনুযায়ী পরিচালিত করছেন।
কমিশন নিজের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা সিইসি-র অবিলম্বে পদত্যাগ অথবা তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন। - নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২৩ সংশোধন:সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে কেন্দ্র সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য যে নতুন নিয়ম চালু করেছে, তা বাতিলের দাবি তোলা হয়।
তাদের বক্তব্য, এই আইনের কারণে কমিশনের স্বাধিকার নষ্ট হচ্ছে।
পুলিশি পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মসূচি
আটক হওয়ার সময় পুলিশের ভ্যানে বসেই সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও প্রবীণ নেত্রী সুভাষিণী আলী স্পষ্ট জানান যে পুলিশ দিয়ে গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করা যাবে না। এই লড়াই শুধুমাত্র দিল্লির রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজ্যভিত্তিক এবং তৃণমূল স্তরে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন চলতে থাকবে।


