নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা | ১ জুন ২০২৬
দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং দলীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হলেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই বিধায়ককে ছয় বছরের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সম্প্রতি সই-জাল বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয় শাসকদল। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন ওই দুই বিধায়ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জারি করা নোটিশে জানানো হয়েছে, দলের যোগ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা হচ্ছে। ই-মেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ মারফত সেই সিদ্ধান্ত দুই বিধায়ক এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, “আমরা পক্ষপাতদুষ্ট কাজে নিজেদের যুক্ত করতে চাই না। আমরা ভয়হীনভাবে কাজ করার শপথ নিয়ে বিধানসভায় এসেছি।” তাঁর দাবি, বিধানসভার আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি অধ্যক্ষের নজরে আনা তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল এবং তাঁরা সেই দায়িত্বই পালন করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও অসন্তোষকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। বহিষ্কারের ফলে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮-এ নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, সন্দীপন সাহা তিনবারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার পুত্র। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে এন্টালি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন সময়ে এই বহিষ্কার ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও জল্পনার জন্ম দিতে পারে।


