" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী: 'দিল্লি চলো' আন্দোলন ও দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী: 'দিল্লি চলো' আন্দোলন ও দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক



নয়াদিল্লি:
ভোটার তালিকা সংশোধন ও স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, সিপিআই(এম) সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং যুব সংগঠনগুলি এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সোচ্চার হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি যুব সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রাজধানী অভিমুখে ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন ও যন্তর মন্তরে গণবিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্দোলনের মূল পটভূমি ও প্রধান অভিযোগসমূহ

১. ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও নাম বাদ দেওয়া:
বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন পরিচালিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা একে "ভোটাধিকার চুরি" এবং "গণতন্ত্রের হত্যা" বলে আখ্যা দিয়েছেন।

২. পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ:
সিপিআই(এম) এবং স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শাসকদলের স্বার্থে কাজ করছেন এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছেন। সম্প্রতি কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব জিজী থমসনের করা কিছু বিস্ফোরক মন্তব্যের পর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে থাকার অভিযোগ আরও তীব্র হয়।

৩. নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো—জ্ঞানশ কুমারকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, চলমান SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে এবং পুরো ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

‘দিল্লি চলো’ অভিযান ও উত্তপ্ত রাজপথ

  • ব্যাপক বিক্ষোভ ও আটক: নয়াদিল্লি এবং মুম্বাইসহ দেশের নানা প্রান্তে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যুব সমর্থক রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। গত শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ প্রদর্শনকালে কয়েকশত আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করে।

  • শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলন: বিরোধী নেতৃত্ব ও যুব আন্দোলনের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। সরকার লাঠি ও পুলিশ দিয়ে রাজপথ খালি করার চেষ্টা করলেও ভোটাধিকার রক্ষার এই প্রশ্ন থামানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

  • মেট্রো স্টেশন ও নিরাপত্তা কড়াকড়ি: আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন এলাকা এবং মেট্রো স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে ব্যাপক জমায়েত ঠেকাতে ১৬৩ ধারা জারি সহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

  • কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, "ভোটাধিকার রক্ষার জন্য যুবসমাজ যখন শান্তিপূণভাবে পথে নামছে, তখন মোদী-শাহ সরকার আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে আটক করছে। তবে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে।"

  • বামপন্থীদের অবস্থান: সিপিআই(এম) এবং সিপিআই অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের দাবি তুলে ধরেছে।

নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানালেও বিরোধী দলগুলি সেই স্পষ্টীকরণ প্রত্যাখ্যান করে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ বা ইমপিচমেন্টের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। আগামী দিনগুলিতে 'দিল্লি চলো' মার্চ আরও জোরদার হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies