বিশেষ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ কর্মচারীদের টানা আন্দোলন এবং রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হওয়া ব্যাপক 'ব্ল্যাক-আউট'-এর পর অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে হরিয়ানার বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গুরুগ্রাম ও নুহ্ জেলায় বেসরকারি সংস্থা 'ইলেভেন পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড'-কে দেওয়া ২৫ বছরের সমান্তরাল বিদ্যুৎ বন্টন (Parallel Distribution) লাইসেন্স বাতিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।
৪৮ ঘণ্টার আন্দোলন ও নাগরিক অচলাবস্থা
হরিয়ানা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন (HERC)-এর বেসরকারীকরণমুখী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে 'হরিয়ানা ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স জয়েন্ট অ্যাকশন ফ্রন্ট'-এর আহ্বানে প্রায় ৪০,০০০ বিদ্যুৎ কর্মী ও প্রকৌশলী আন্দোলনে নামেন। গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটানা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ বাসাবাড়িতে জল সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ব্যাপক গণঅসন্তোষ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
সরকার ও বিদ্যুৎ ইউনিয়নের যৌথ বৈঠক
পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চকুলায় আন্দোলনকারী ইউনিয়ন নেতাদের সাথে একাধিক দফায় দীর্ঘ বৈঠকে বসেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি এবং শক্তি মন্ত্রী অনিল বিজ। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবায় কোনো ধরনের বেসরকারীকরণ হতে দেওয়া হবে না।
এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়:
- ১০৮ নম্বর ধারার প্রয়োগ: বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর ১০৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রক কমিশনকে (HERC) নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
- রিভিউ পিটিশন দাখিল: কমিশনের প্রদত্ত লাইসেন্সিং আদেশ পর্যালোচনার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রিভিউ আবেদন করা হবে।
- আন্দোলন প্রত্যাহার: সরকারি প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর যৌথ সংগ্রাম কমিটি থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ কর্মীরা অবিলম্বে কাজে যোগ দিয়ে সংযোগ পুনর্বহাল করেছেন।
জনপরিষেবা ও পাবলিক ইউটিলিটি সুরক্ষায় বিদ্যুৎ কর্মীদের এই আপসহীন জয় ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


