ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় ৯০ জনেরও বেশি মৃত্যু হওয়ার এক মাসেরও কম সময় পরে, ইরানের পূর্ব প্রতিবেশী পাকিস্তানও একই ধরনের সংকটের সাথে লড়াই করছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের মুনাফামুখী এবং বন্য ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট, শুধুমাত্র আর আশঙ্কা নয় একটি জীবন্ত বাস্তবতা। পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং দুুুই হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পাকিস্তানের ৭৫২ টি হিমবাহ গলে জল হয়ে যাওয়ায় এই বন্যা তীব্রতর হয়েছে। মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় পাকিস্তানে হিমবাহের পরিমাণ বেশি।
সাম্প্রতিক হতাহতের পরিসংখ্যান দেখায় যে পাকিস্তানের মতো বিশ্বব্যাপী দক্ষিণের দেশগুলিকে সেই শিল্পগুলি থেকে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য অর্থ দিতে হয় আই এম এফ কিংবা বিশ্ব ব্যাংকগুলোকে।
পাকিস্তান গ্রিনহাউস গ্যাসের ১ শতাংশের কম উৎপন্ন করে।
যদিও উত্তরের দেশগুলি - অর্থাৎ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং জাপান - ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের নব্বই শতাংশের এরও বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনের জন্য দায়ী।
অক্সফামের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের জনসংখ্যার সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ১.৩ বিলিয়ন দরিদ্র মানুষের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদন করেছে।অর্থের বৈষম্যের পাশাপাশি বিশ্বের মূল সম্পদের কুক্ষিগত করে মাত্র ১ শতাংশ মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্যকলাপ বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ বিপদের মুখে।


