" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুড়িতে বামেদের শহীদ স্মরণ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুড়িতে বামেদের শহীদ স্মরণ



২০০৭ সালের ৮ ই অক্টোবর আজকের দিনে নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ রক্ষা কমিটির নামে সন্ত্রাস বাহিনীর হাতে খুন হয়েছিলেন খেজুরির সিপিআইএম নেতা ও শিক্ষক মানস মন্ডল।আজকের এই দিনটিতে তাঁর কটারি গ্রামে শহীদ বেদীতে মাল্যদান ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনও স্মরন করেন সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস।

উপস্থিত ছিলেন খেজুরি-১ এরিয়া কমিটির সদস্য ও কলাগেছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতএলাকার নেতৃত্ব শেখ মুস্তাক, শেখ রবিউল হোসেন, শেখ মনিরুল, শেখ আইজুল, পরিমল মিদ্যা, নির্মল মন্ডল ও কমরেড মানস মন্ডলের স্ত্রী- ভারতী মন্ডল ও তাঁর পরিবারের লোকজন এবং গ্রামবাসীগন।

২০০৭ সালের ৩ রা জানুয়ারি নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্মল গ্রামের রিপোর্টের জন্য জেলা পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকগণ এসেছিলেন। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে আলোচনার জন্য। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা কমিটির নামে তৃণমূল -নকশাল সহ অতিবাম ও দক্ষিণপন্থী দলগুলির জোট মিথ্যাও ঘৃন্য প্রচার করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে খেপিয়ে তোলে। সাথে সাথে চারপাশ থেকে লোকজন লাঠি, বোম ,বন্দুক নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পঞ্চায়েত প্রধান, কর্মচারীদের উপর অত্যাচার চলায়।পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চারিদিকে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়।এর পর থেকে একের পর এক খুন, ধর্ষণ লুটপাট, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, অত্যাচার অবলীলা ক্রমে মাসের পর মাস চলতে থাকে। এমনকি প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পুলিশকেও খুন করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নন্দীগ্রাম ঘিরে চারপাশে মূল মূল রাস্তা গুলি কেটে দেওয়া হয়। গাছের বড় বড় গুড়ি ফেলে যাতায়াত ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শংকর সামন্তকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু হয়ে যায় মানুষ নিধন যজ্ঞের। সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করল কি করে মিথ্যা প্রচার ও ষড়যন্ত্র করে দিনের পর দিন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে স্তব্ধ করে দিয়ে নন্দীগ্রামকে ধ্বংস লীলায় পরিণত করলো। যার নেতৃত্বে তদনিন্তন তৃণমূল নেতা, বর্তমান বিজেপি নেতা- শুভেন্দু অধিকারী।

khejuri 2007

খেজুরি- নন্দীগ্রাম মিলিয়ে এ সময় ৬৫জন সিপিআইএম খুন হয়ে গেলেন। মা-বোনেদের ইজ্জত গেল। এমনকি নাবালিকাদের ও পর্যন্ত সর্বনাশ করা হলো। অপরন্তু প্রচার করল ওরা নন্দীগ্রামে নাকি মায়েদের স্তন কেটে নেওয়া হয়েছে,শত শত ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েদের দু পা চিরে তালপাটি ক্যানেলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যানেলের জল লালে লাল হয়ে গেছে। কত অপপ্রচার, কত মিথ্যা প্রচার, কত ষড়যন্ত্রের ফলে নন্দীগ্রাম -খেজুরি সহ জেলার হাজার হাজার মানুষ সর্বনাশের শিকার হলেন। চটি পরা পুলিশের গল্প , বাপ-বেটারা পরিকল্পনা করে নন্দীগ্রামে কি সর্বনাশ করেছে তা নিয়ে সব আজকে মানুষের কাছে তৃণমূল- বিজেপি নেতারা, মন্ত্রীরা, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীও বলে বেড়াচ্ছেন । সবকিছু আজ কে জলের মতো পরিষ্কার।


তার মধ্যে ৮ ই অক্টোবর, মানস মন্ডল সিপিএমের নেতা তথা বাহারগঞ্জ নরেন্দ্র- সুকুমার শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পঠনরত অবস্থায় থাকাকালীন নন্দীগ্রামের দুষ্কৃতিকারীরা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর মুখের মধ্যে বন্ধুকের নল ঢুকিয়ে সরাসরি খুন করল। তাঁর অপরাধ, নন্দীগ্রাম থেকে শয়ে শয়ে মহিলা, শিশু, অসহায় মানুষ পালিয়ে এসে খেজুরিতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের ক্যাম্প করে রাখা হয়েছিল। তাদের খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা, পড়াশুনা, আর্থিক সাহায্য সমস্ত ব্যবস্থা খেজুরির মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এ কাজে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিলেন মানস মন্ডল। আর সেই অপরাধে খেজুরির শিক্ষককে প্রাণ দিতে হলো। শুধু মানস মন্ডল নয় এমন ১৬ জন খেজুরির বাম কর্মীদের ঐ সময় প্রাণ দিতে হয়েছে।
আজকে, তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সি, পি, আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস বলেন- বিচার চাইছে খেজুরি -নন্দীগ্রামের শহীদ পরিবার। যারা এই ঘটনা ঘটলো, সেই তৃণমূল নেতা আজকে বিজেপির নেতা এবং ওই নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদল নেতা। এখনো ভুল বোঝানো হচ্ছে, যারা খুন করল, মানুষের সর্বনাশ করল, তারা গায়ের নামাবলী পরিবর্তন করে সাধু সেজে মানুষের উপকারী বন্ধু হিসেবে সামনে বড় বড় বক্তৃতা করছেন। ঐসব প্রবঞ্চক নেতৃত্বদের মানুষ আস্তে আস্তে চিনতে পারছেন। কি সর্বনাশ করা হয়েছে নন্দীগ্রামে ।শিল্পোন্নয়নের অঙ্কুরোদগত বীজ কে ধ্বংস করে।


শহীদের রক্ত হবে নাকো ব্যর্থ ।

এই শপথ নিয়ে আজকে শ্রদ্ধা জানান কটারি গ্রামের গ্রামবাসীগণ। তৃণমূল দল ও সরকারের দম বন্ধ করা এই পরিবেশের পরিবর্তন চাইছেন মানুষ। লাল ঝাণ্ডাই পারে লুটেরা, চোর, ধর্ষণকারীদের তাড়িয়ে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পক্ষে মানুষকে সাহায্য করতে।দিকে দিকে আওয়াজ উঠছে। সমস্ত অপরাধের বিচার একদিন হবেই। জনগণই সেই বিচার করবেন, আগামী দিনের লড়াই,আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। নির্বাচনগুলিতে রায়দানের মধ্য দিয়ে।সে দিন শুধু অপেক্ষার।

Tags

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies