কলমে : তাপস দাস
ধুবুলিয়ার শোনডাঙ্গা গ্রামের রাস্তায় নিয়ম করে প্রতিদিন ছুটতো একটি মেয়ে রেজোয়ানা। মেয়ের পিছনে মোটর বাইক নিয়ে ছুটতেন রেজাউল ইসলাম মল্লিক। বাড়িতে অপেক্ষায় থাকতেন মা অনিমা মল্লিক। রেজাউল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব শিক্ষক। মাসিক উপার্জন টেনেটুনে হাজার দশেক। কিন্তু স্বপ্ন অফুরান।
মেয়ে হবে অনেকের মধ্যে অনন্যা। শোনডাঙ্গা থেকে দুনিয়া একডাকে জানবে রেজাউল মাস্টারের মেয়ে চ্যাম্পিয়ন হেনা। মেয়ে দৌড়বে পি টি ঊষার মত। মেয়ে অ্যাথলেটিক হবে। রেজাউল,অনিমা দুজনেই জাতীয় স্তরে কবাডি খেলতেন। সাই-এ সুযোগ পেয়েও যাওয়া হয়নি। ওই যে অভাব, একদিন থামিয়ে দেয় দুজনের খেলা। কন্যা সন্তান হওয়ার পর রেজাউল অনিমা নতুন করে স্বপ্ন দেখেন তাঁদের না হওয়া স্বপ্নের উড়ান দেবে মেয়ে হেনা। ভোর চারটের সময় কাজে চলে চান রেজাউল, দশটায় ফিরে আবার স্কুল। এইভাবে সময়কে বিট করে ২০১৯ সালে কলকাতায় প্রশিক্ষণ, তারপর বেঙ্গালুরু প্রশিক্ষণ।
শোনডাঙ্গার মেয়ে হেনা, রেজোয়ানা, টিনের এক কুঠরি বাড়ি, স্পন্সর নেই, দৌড়নোর ভালো জুতো নেই। হেনার দৌড়ে চলেছে। দৌড়োতে দৌড়োতে গুয়াহাটিতে ৩৭তম জাতীয় জুনিয়ার অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ২০২২ এ জাতীয় রেকর্ড করে ফেলেছে সে। অনিমা মল্লিকের মেয়ে আগের জাতীয় রেকর্ড ৪০.১১ সেকেন্ড ভেঙ্গে ৩০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে ৩৮.৫৮ সেকেন্ডে। নতুন জাতীয় রেকর্ড।
ধুবুলিয়ার শোনডাঙ্গা প্রান্তিক গ্রামের মেয়ে হেনা, রেজোয়ানা এবার দৌড়বে আসন্ন এশিয়াড গেমসে। মতি নন্দী থাকলে হয়তো লিখতেন- ফাইট হেনা ফাইট। অদম্য জেদ, প্রতিভা ছাড়া আমাদের গ্রামের মেয়েটির কিছু নেই। আমরা শুধু বলতে পারি দৌড়ে যা, দৌড়ে যা মাস্টারের মেয়ে। বাবা মায়ের স্বপ্ন ডানা মেলুক তোর উড়ানে। অভাব অভিযোগ অনটন সমস্ত কিছুকে লাত্থি দিয়ে পিছনে ফেলে এগিয়ে চল চ্যাম্পিয়ন মেয়ে।
(সাথে ছবি- কিশোর বাহিনীর সম্বর্ধনা।
ছবি- কমল দাস)




