*দ্য ব্যাঙ্গালোর স্টোরি , মানবতার বিশ্বায়ন (দ্বিতীয় পর্ব)*
*শংকর পাল*
ফোন ধরতেই অপরপ্রান্তে শিখা , একটু উদ্ভ্রান্তের মতো মনে হলো বললো ব্যাথা শুরু হয়েছে কি করবো।অনিক প্রমাদ গুনলো কারণ বাইরের পরিস্থিতি ভয়ানক প্রবলবৃষ্টির আওয়াজ এই অবস্থায় বাইরে কার উপর ভরসা করা যাবে।ফোনেই কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে বলতে একটা প্রবল বজ্রপাত ।ফোন কেটে যায় তৎক্ষনাৎ আবার ফোন কিন্তু কোনো উত্তর নেই।পাশের বাড়ির সীমা বৌদিরা চিকমাঙ্গালুর গেছে অগত্যা ভরসা ওয়াচম্যান।ভেঙ্কটেশ কে ফোন ধরতেই ও বললো বৃষ্টির জন্য সে আজ বেরোতেই পারেনি।ধৰ্য্যের বাঁধ ভাঙছে তবে আরেক ওয়াচম্যান নাইট ডিউটি করে সকালের ডিউটি করছে।ওসমান কে ফোন করতেই শুধু বললো অনিক বাবু আপনি ধীর স্থির ভাবে আসুন আমি আছি তো চিন্তা করবেন না।প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বেরিয়ে পড়ল অনিক , বেরোতেই তাল কাটলো গাড়ির সামনের টায়ার বসে গেছে।কোনো ম্যাকানিক পাওয়া দূর অস্ত দোকানগুলিও বন্ধ।দেরি না করে নিজেই হাত লাগাতে হলো।অফিসের সেন বাবুর দৌলতে সেই কাজটিও শিখে ফেলেছে অনিক।নিজেই তখন দশ ভুজা টায়ার ঠিক করতে করতে অতিক্রান্ত ২০ মিনিট মাঝে একবার ওসমান কে ফোনে চেষ্টা করলো না এবার বৃথা চেষ্টা ফোন সুইচ অফ।এবার সত্যিই ভয় বুকে বসতে লাগলো অনিকের তাহলে কি চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি জেহাদী কিংবা ধর্ষণকারী আর ভাবতে ই পারছে না অনিক।গাড়ি স্টার্ট করে সোজা রাজপথ দিয়ে তখন যেন ফর্মুলা ওয়ান ।রাস্তায় উঠতেই একি কি অবস্থা ? ঝা চকচকে শহর যেন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোমর সমান কোথাও বা আরেকটু উপরে।এস ইউ ভি এসবের বিরুদ্ধে সিদ্ধহস্ত চিন্তা নেই।গাড়ি চলতে আবার ফ্লাশব্যাক কলকাতার কিছু রাস্তা নাকি মিনি পাকিস্তান ওখানে হেটে চলা মানুষগুলো অচেনা,গলিতে ঢুকলে মনে হবে কোন এক করাচি অবশ্য কলেজের ক্যান্টিনে সেই আলোচনার সারবত্তা।কোনোদিন অনিক সেখানে যায়নি আলোচনার কেন্দ্রে তখন দোষী হয়ে যাওয়া একটা সম্প্রদায়।তাহলে কি সেই আলোচনার চিত্রপট কি তবে ব্যাঙ্গালোরে দেখতে পাবে।অজানা আতংক গ্রাস করছে অনিকের মন।
ওসমান ফোনটা পেয়েই সোজা চারতলার অনিক স্যারের রুমে অনেক বার ডাকাডাকির পর অবশেষে মাস্টার কি ভরসা তাও আবার সোসাইটির সম্পাদকের অনুমতি সাপেক্ষে।দরজা খুলতেই চোখ ছানাবড়া ওসমানের ।।।কি দেখলো সে ভয়ঙ্কর দৃশ্য।।।।।।আসছি পরের পর্বে পাঠকদের কাছে অনুরোধ কি দেখলো ওসমান ? নাকি কি গড্ডালিকা প্রবাহ।।

