দিল্লিতে সিটু সহ একাধিক শ্রমিক সংগঠনগুলির কনভেনশন: মে মাসে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক
নতুন দিল্লি, ১৮ মার্চ ২০২৫: নতুন দিল্লির প্যারেলাল ভবনে আজ কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠনগুলোর উদ্যোগে একটি ঐতিহাসিক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কনভেনশনের আয়োজক ছিল সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিটু), এবং এতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
কনভেনশনে উপস্থিত সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল সিটু, ইন্টাক, এআইটিইউসি, এইচএমএস, এআইসিসিটিইউ, সেবা, এলপিএফ এবং আরও বহু জাতীয় ও আঞ্চলিক ফেডারেশন এবং শ্রমিক সংগঠন। এ দিন কনভেনশনে নেতৃবৃন্দ দেশের শ্রমিক শ্রেণির প্রতি বিজেপি সরকারের শ্রমিক-বিরোধী এবং কর্পোরেটপন্থী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
কনভেনশনের লক্ষ্য ও প্রস্তাবনা
কনভেনশনের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল বিজেপি সরকারের নতুন শ্রম কোড, যা চারটি পৃথক আইন হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার হরণ করতে পারে বলে অভিযোগ। নেতৃবৃন্দ জানান, এই শ্রম কোড কার্যকর হলে তা শ্রমিক শ্রেণির জন্য ক্ষতিকর এবং বৃহৎ কর্পোরেটদের স্বার্থ রক্ষার একটি হাতিয়ার।
কনভেনশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে,
- শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার দিনেই আন্দোলন: যদি সরকার শ্রমিক-বিরোধী চারটি শ্রম কোড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেদিনই জোরালো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হবে।
- ২০ মে ২০২৫: দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট: শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার পরও যদি সরকার তা প্রত্যাহার না করে, তবে ২০ মে ২০২৫ তারিখে কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে।
- জেলা ও রাজ্য কনভেনশন: ধর্মঘট সফল করতে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি জেলায় এবং রাজ্যে শ্রমিক সংগঠনগুলোর যৌথ কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ধর্মঘট নোটিশ: সংগঠিত শ্রম ইউনিয়নগুলিকে তাদের ম্যানেজমেন্টকে ৩ মে-র মধ্যে ধর্মঘটের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে বলা হয়েছে।
শ্রমিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক
কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতারা বিজেপি সরকারের "শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী এবং জনবিরোধী" নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা জানান, সরকারের নতুন নীতিগুলো শুধুমাত্র কর্পোরেটদের মুনাফা বাড়াতে কাজ করছে এবং সাধারণ শ্রমিক ও কৃষকের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সিটুর জাতীয় সভাপতি কমরেড হেমলতা তার বক্তব্যে বলেন, "আমাদের এই আন্দোলন শ্রমিক শ্রেণির অধিকার রক্ষার লড়াই। আমরা একত্রিত হয়েছি সরকারের শ্রমিক-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে। সিটু এই আন্দোলনকে সফল করতে দেশের প্রতিটি কোণে কাজ করবে।"
সিটুর সাধারণ সম্পাদক কমরেড তপন সেন বলেন, "ধর্মঘট শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয়, এটি শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যের প্রতীক। আমাদের সকলকে একযোগে লড়তে হবে এবং এই ধর্মঘটকে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় করে তুলতে হবে।"
কনভেনশনের গুরুত্ব
এই জাতীয় কনভেনশন শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে যে শ্রমিক শ্রেণি একত্রিত হয়ে সরকারের শ্রমিক-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত। ২০ মে ২০২৫ তারিখে দেশব্যাপী ধর্মঘট ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কনভেনশনে উপস্থিত নেতারা একযোগে ঘোষণা করেন যে, "এই আন্দোলন আমাদের অধিকারের লড়াই। আমরা যে করেই হোক, ধর্মঘটকে সফল করব এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রতি অবিচারের প্রতিবাদ জানাব।"
শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে সিটু ও অন্যান্য সংগঠনগুলোর এই কনভেনশন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।




