ব্যাংক ধর্মঘট ২৪-২৫ মার্চ ২০২৫: পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ ও চাকরির সুরক্ষার দাবিতে উত্তাল ব্যাংক আন্দোলন
ভারতের ব্যাংক খাত আবারো উত্তাল। ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU)-এর ডাকে আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৫ দেশজুড়ে দু’দিনব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ, পর্যাপ্ত নিয়োগ, এবং চাকরির সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন।
পূর্ববর্তী আন্দোলন
ব্যাংক ধর্মঘটের আগে ৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে দিল্লিতে সংসদ ভবনের সামনে এক বিশাল ধর্না অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে প্রতিবাদসূচক ব্যাজ পরে কাজ করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে দেশজুড়ে জেলাস্তরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
UFBU-এর প্রধান দাবিগুলি
- নিয়োগ বৃদ্ধি: শূন্যপদ পূরণ ও অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ।
- পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ: কাজের চাপ কমানোর জন্য দীর্ঘদিনের দাবি।
- চাকরির সুরক্ষা: কর্মদক্ষতা ভিত্তিক পর্যালোচনা ও উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে প্রণোদনা ব্যবস্থা বাতিল।
- আউটসোর্সিং বন্ধ: স্থায়ী চাকরি রক্ষায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ বন্ধ।
- কাস্টমার আবিউস প্রতিরোধ: কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- ব্যাংক বেসরকারীকরণ বিরোধী পদক্ষেপ: আইডিবিআই ব্যাংকের ন্যূনতম ৫১% সরকারী মালিকানা বজায় রাখা।
ধর্মঘটের প্রভাব
ধর্মঘটের তারিখে একটি সপ্তাহান্ত জুড়ে ব্যাংক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। ক্যাশ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স, এবং ঋণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে, ইউনিয়ন নেতাদের মতে, এই আন্দোলন কর্মীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আঞ্চলিক ব্যাংকের সমর্থন
আল ইন্ডিয়া রিজিওনাল রুরাল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (AIRRBEA) ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে আঞ্চলিক ব্যাংকের সমস্যা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ব্যাংক খাতে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) এবং অর্থ পরিষেবা বিভাগের (DFS) নীরবতায় কর্মীদের অসন্তোষ চরমে উঠেছে। কর্মীদের দাবি, সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়।
ব্যাংক ধর্মঘট শুধু বেতন বা সুযোগ-সুবিধার জন্য নয়, এটি চাকরির সুরক্ষা, ন্যায্য আচরণ এবং দেশের পাবলিক সেক্টর ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য। "ঐক্যবদ্ধ আমরা, বিজয় নিশ্চিত" স্লোগান নিয়ে কর্মীরা তাঁদের দাবি আদায়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

