উত্তরকন্যা অভিযানে পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণ: আন্দোলনরত ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব ও কর্মীদের উপর নৃশংস অত্যাচার, আটক রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা ও কমরেড মীনাক্ষী মুখার্জি
শিলিগুড়ি, ২৮ মার্চ, ২০২৫: ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই)-এর উদ্যোগে আয়োজিত "উত্তরকন্যা অভিযান" শিলিগুড়িতে এক শোচনীয় সহিংসতায় পর্যবসিত হয়েছে। যুবসমাজের স্থায়ী চাকরির দাবি, মনরেগায় কাজের দিন বাড়ানো, চা শ্রমিকদের জীবনযাপনের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রশাসনের দমনমূলক নীতির শিকার হয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।
দমনপীড়ন ও আহত
উত্তরকন্যা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছানোর আগে থেকেই পুলিশের তরফে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে বহু কমরেড, বিশেষ করে মহিলা কর্মীরা গুরুতর আহত হন।
পুলিশ আহত কমরেডদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না করায় তাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পুলিশি আক্রমণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা বলেন, "কাজ দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই সরকারের এই নিষ্ঠুর আচরণ যুব সমাজকে আরও সংঘবদ্ধ করবে।"
আটক নেতৃত্ব ও কর্মীরা
সংঘর্ষের সময় রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা এবং গুরুত্বপূর্ণ কমরেড মীনাক্ষী মুখার্জি সহ বহু নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি নিয়ে এগোচ্ছিলাম। তবু পুলিশ আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে দমনপীড়ন নীতি গ্রহণ করেছে।"
পুলিশি হেফাজতে বিক্ষোভ ও মুক্তির দাবি
মীনাক্ষী মুখার্জি এবং অন্যান্য কর্মীদের মুক্তির দাবিতে নিউ জলপাইগুড়ি থানার সামনে ডিওয়াইএফআই সমর্থকদের ব্যাপক জমায়েত হয়। নেতৃত্ব জানিয়েছেন, "এই গ্রেপ্তার অন্যায়। আমরা অবিলম্বে আটক কমরেডদের মুক্তি চাই। আমাদের দাবির লড়াই থেমে থাকবে না।"
ডিওয়াইএফআই-এর দাবি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে,
-
চাকরির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
-
মনরেগায় কাজের দিন ১০০ থেকে ২০০ করতে হবে।
-
বন্ধ চা বাগান খুলে চা শ্রমিকদের জমির অধিকার এবং ন্যায্য মজুরি দিতে হবে।
-
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
-
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাজের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
পুলিশি দমনপীড়নের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের এই সহিংস দমননীতি নিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, "যুব সমাজের ন্যায্য দাবি নিয়ে গঠিত আন্দোলন দমনে এই ধরনের পুলিশি বর্বরতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।"
সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে
ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছেন, "আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। পুলিশের বর্বর আক্রমণ আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে আন্দোলন চলবে।"
উত্তরকন্যা অভিযানের ঘটনাটি রাজ্য সরকারের যুব সমস্যার প্রতি উদাসীনতা এবং প্রশাসনের দমনমূলক আচরণের একটি নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। আহত কমরেডদের চিকিৎসা, আটক নেতাদের মুক্তি, এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে রাজ্যের সচেতন নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেছেন।

