বুরকিনা ফাসোতে মার্ক্সবাদী সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি এক নীরব যুদ্ধের কবলে পড়েছে। ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আল-কায়দার সহযোগী জেএনআইএম এবং আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট), দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৃশংস হামলা চালাচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চলছে। পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের (বুরকিনা ফাসো, নাইজার, মালি) এই মানবিক সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে খুব কমই আসছে।
এই অঞ্চল এখন আইএসআইএস-এর অন্যতম সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তবুও, এই সংকটের আসল গল্পটি প্রায় অদৃশ্যই থেকে যাচ্ছে। বুরকিনা ফাসোর মানুষ শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছে না, তারা সাহারা মরুভূমির মধ্য দিয়ে অস্ত্র সরবরাহের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন মিলিশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসার এই নেটওয়ার্ক অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
প্রায় কোনো আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই এই মানুষেরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এককভাবে প্রতিরোধ মৃত্যুর সময়কে কেবল পিছিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট কেবল আফ্রিকার সীমানায় থেমে থাকবে না; এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই নীরবতা সম্ভবত ইচ্ছাকৃত। এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা কেবল অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফল নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার কাঠামোর প্রতিফলন। আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর বিভক্তি ও দুর্বলতা বিদেশি শোষণের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করছে—সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে। ধর্মীয় সন্ত্রাস এখানে কেবল একটি আদর্শগত হুমকি নয়; এটি এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার অংশ, যা অস্থিতিশীলতা, সম্পদ লুণ্ঠন ও আধিপত্যের উপর টিকে আছে। পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ কেবল জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছে না, তারা বিশ্বব্যাপী শোষণের গভীর কাঠামোর বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, যা তাদের ভূমি ও জীবনকে ক্ষমতা ও মুনাফার জন্য তুচ্ছ মনে করে।


