দিল্লি, ১১ জুন ২০২৫ (সকাল ৬:৫৮ IST): গতকাল, ১০ জুন, নতুন দিল্লির ইসরায়েল দূতাবাসের সামনে গাজায় বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে একদল ছাত্র একত্রিত হয়েছিল। এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বামপন্থী ছাত্রদের পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট এবং সিপিআই(এম) নেতা ঐশী ঘোষ। তিনি একটি পোস্টে জানিয়েছেন, "নেতানিয়াহু, তুমি দেখবে, ফিলিস্তিন মুক্ত হবে।"
প্রতিবাদের সময় পুলিশ ও প্রতিবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষের কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে পুলিশ ছাত্রদের শারীরিকভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ছাত্ররা ফিলিস্তিনের পতাকা ও স্লোগানযুক্ত পোস্টার হাতে প্রতিবাদ করছিলেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে খবর প্রকাশ যে পুলিশ প্রতিবাদীদের গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের অধিকার সমর্থন করে এসেছে, যা ১৯৮১ সালের একটি ডাকটিকিটে "ভারত ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অপরিহার্য অধিকার সমর্থন করে" উল্লেখিত হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। আর্কটিকেল-১৪-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অক্টোবর ২০২৩ থেকে ফিলিস্তিন সমর্থক প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে ১৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে এনএলএ (অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) এর অধীনে মামলা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা (জার্নাল অফ কনফ্লিক্ট রেসোলিউশন, ২০২৩) নির্দেশ করে যে, এই ধরনের প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের রিপোর্ট বলছে যে, প্রতিবাদের সময় গ্রেফতারি স্থানীয় সংঘাত বাড়াতে পারে। এই ঘটনা ভারতের ভিতরে ও বাইরে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।



