পুনে, ৩০ জুলাই, ২০২৫ – পুনেতে বসবাসকারী কার্গিল যুদ্ধের প্রবীণ সৈনিক হাকিমুদ্দিন শেখের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, চন্দন নগর পুলিশ সম্প্রতি একদল লোকের সাথে তাদের বাড়িতে ঢুকে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ চেয়ে হয়রানি করেছে ।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশ এবং একদল লোক রাতে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে । এরপর পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মধ্যরাতে চন্দন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভোর ৩টা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করানো হয় । এই সময় তাদের কাছে নাগরিকত্বের নথি চাওয়া হয় এবং নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা ঘোষণা করার হুমকি দেওয়া হয় ।
শেখ-এর ভাই ইরশাদ শেখ হতবাক হয়ে জানিয়েছেন যে, স্লোগান দিতে থাকা একদল জনতা পুলিশকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল । পরিবারের অন্য একজন সদস্যের দাবি, তারা তাদের আধার কার্ডের মতো নথি দেখালেও, জনতা সেগুলোকে জাল বলে ঘোষণা করে [২]। বাড়ির মহিলাদেরও নথি দেখানোর জন্য হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুনে সিটি পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার মঙ্গলবার জানান যে, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিআর) এই ঘটনার তদন্ত করছেন । তিনি আশ্বাস দেন যে, পুলিশের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে [৩]। কমিশনার আরও জানান যে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের বাড়িতে জোর করে প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আরও তদন্ত করছে ।
ডিসিআর (জোন IV) সোমায় মুন্ডে স্পষ্ট করেছেন যে, ওই এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা অবস্থান করছে - এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং এর পরই পরিবারকে নথি দেখাতে বলা হয় ।
হাকিমুদ্দিন শেখ (৫৮) ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন । তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ১৯৮৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর ২৬৯ ইঞ্জিনিয়ার রেজিমেন্ট অফ কর্পস অফ ইঞ্জিনিয়ার্স-এ নায়েক হাবিলদার হিসেবে কাজ করার পর অবসর গ্রহণ করেন । তার দুই চাচা, শেখ নাঈমুদ্দিন এবং শেখ মোহাম্মদ সেলিম, ১৯৬৫ এবং এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন । নাঈমুদ্দিন সেনাবাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি ইউনিট থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সেলিম ইঞ্জিনিয়ারিং রেজিমেন্টে ছিলেন ।


