আজ, জাতীয় ক্রীড়া দিবসের এক পবিত্র সন্ধ্যায়, দুর্গাপুরের জীবনদান ভবন এক ভিন্ন অনুভূতির সাক্ষী হলো। শুধু একটি সভা নয়, এটি ছিল স্বপ্ন, অঙ্গীকার আর ভালোবাসার এক মেলবন্ধন, যা বিকেল ৫:৩০ মিনিটে প্রদীপ জ্বালানোর সাথে সাথেই যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল।
ভারত সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অধীনস্ত 'মেরা যুবা ভারত দুর্গাপুর'-এর পক্ষ থেকে যখন দেশবন্ধু নগর ফ্রেন্ডস ক্লাব, দুর্গাপুর অন্নপূর্ণা নগর বিবেকানন্দ প্রগতি সোসাইটি এবং মিশন সমাধান ফাউন্ডেশনের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন শুধু কয়েকটি সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়নি। বিতরণ করা হচ্ছিল অসংখ্য তরুণ প্রাণের নতুন করে মাঠে ফেরার আশা, নিজেদের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলার এক নতুন প্রেরণা। প্রতিটি বল, প্রতিটি জার্সি যেন ফিসফিস করে বলছিল – "ফিরে এসো মাঠে, আবার খেলো প্রাণভরে!"
"কাজের সাথে খেলতে চাই, খেলার সাথে গড়তে চাই" – এই মন্ত্রটি আজ শুধু শ্লোগান ছিল না, ছিল দুর্গাপুরের বুকে নতুন এক ভোর আনার শপথ। 'মেরা যুবা ভারত দুর্গাপুর' এবং 'দুর্গাপুর সাবডিভিশনাল স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল ক্লাবস কো-অর্ডিনেশন সোসাইটি'র এই যৌথ প্রচেষ্টা যেন প্রমাণ করে দিল, একা নয়, আমরা সবাই মিলে স্বপ্ন বুনতে পারি, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।
দুর্গাপুর সাবডিভিশনাল স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল ক্লাবস কো-অর্ডিনেশন সোসাইটি'র সাধারণ সম্পাদক, কবি ঘোষের কণ্ঠস্বর আজ কেবল একটি আহ্বান ছিল না, ছিল এক আকুতি। তিনি যখন বললেন - "খেলার মাঠকে প্রাণবন্ত ও সক্রিয় রাখতে সবাইকে মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে", তখন মনে হচ্ছিল প্রতিটি খেলার মাঠ যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ডাকছে তার হারানো সন্তানদের। তার কথায় ছিল সেই হারানো দিনগুলির প্রতি ফিরে আসার আহ্বান, যেখানে মোবাইল স্ক্রিনের বদলে মাঠে ছুটে বেড়াতো শৈশব।