আজ, ২৯শে এপ্রিল ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চলছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে সামগ্রিক ভোটের হার ৪০%।
গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এবার ভোটদানের জিগির চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
📊 জেলাভিত্তিক ভোটের হার (সকাল ৯টা ও বেলা ১১টা)
| জেলা | সকাল ৯টা পর্যন্ত (%) | বেলা ১১টা পর্যন্ত (%) |
| পূর্ব বর্ধমান | ২০.৮৬% | ৪৪.৪% |
| হুগলি | ২০.১৬% | ৪৩.১২% |
| নদীয়া | ১৮.৫০% | ৪০.৩৪% |
| হাওড়া | ১৭.৭৬% | ৩৯.৪৫% |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ১৭.৮১% | ৩৮.৪৩% |
| কলকাতা উত্তর | ১৭.২৮% | ৩৮.৩৯% |
| কলকাতা দক্ষিণ | ১৬.৮১% | ৩৬.৭৮% |
🏙️ কলকাতার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের হার (বেলা ১১টা পর্যন্ত)
কলকাতার কেন্দ্রগুলিতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৩৭% ভোট পড়েছে।
মানিকতলা: ৩৯.৭৫%
শ্যামপুকুর: ৩৯.০৫%
বেলেঘাটা: ৩৮.৯৩%
কাশীপুর-বেলগাছিয়া: ৩৮.৫৯%
জোড়াসাঁকো: ৩৮.১৫%
রাসবিহারি: ৩৮.০০%
ভবানীপুর: ৩৭.০০%
এন্টালি: ৩৬.৫৫%
কলকাতা বন্দর (Port): ৩৬.০০%
চৌরঙ্গি: ৩৫.৮৩%
📌 দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মোট ভোটার ও বুথ: আজ মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে ১.৬৪ কোটি পুরুষ, ১.৫৭ কোটি মহিলা এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মোট ৪১,০০১টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে।
প্রার্থী সংখ্যা: ১৪২টি আসনে মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটের এলাকা: এই দফায় কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে ভোট হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই এলাকাগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটি।
হাই-প্রোফাইল লড়াই: দ্বিতীয় দফায় সবার নজর রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। ২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম লড়াইয়ের পর এই কেন্দ্রে আবারও সরাসরি মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।
⏪ প্রথম দফার ভোটের প্রেক্ষাপট
তুলনার স্বার্থে উল্লেখ্য, গত ২৩শে এপ্রিল উত্তরবঙ্গের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটে ঐতিহাসিক ৯৩.২% ভোট পড়েছিল। নির্বাচন কমিশনের মতে, স্বাধীনতার পর এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার। এর মধ্যে কোচবিহারে সর্বোচ্চ ৯৬.২% এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৪% ভোট পড়েছিল।
যেহেতু ভোটগ্রহণ এখনও চলছে, নির্বাচন কমিশন তাদের 'Voter Turnout App'-এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ভোটের হারের আপডেট প্রকাশ করছে। সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আশা করা হচ্ছে।


