কলকাতা, ১৯ আগস্ট, ২০২৫: ভারতের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS) থেকে প্রায় ১২,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (CITU)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রয়োগের অজুহাত দেখিয়ে এই ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আজ কলকাতার নিউটাউনের গীতাঞ্জলি পার্কে অবস্থিত টিসিএস অফিসের সামনে সিআইটিইউ-এর পক্ষ থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
টিসিএস-এর আর্থিক সাফল্য সত্ত্বেও ছাঁটাই কেন?
সিআইটিইউ-এর অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে টিসিএস-এর আর্থিক অবস্থা খুবই শক্তিশালী ছিল। এই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ছিল ২,৫৫,৩২৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৬% বেশি। তাদের অপারেটিং প্রফিট মার্জিন ছিল ২৪.৩%, যা শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৫,৫৮৮ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ২০% বেশি। এমনকি, সিইও-র বার্ষিক আয় ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এত বিপুল মুনাফা ও ৪৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদীরা জানান।
"জুনিয়রাইজেশন স্ট্র্যাটেজি" এবং কর্মীদের অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা জানান, টিসিএস "স্কিল ফিটমেন্ট"-এর নামে ২০ থেকে ২৫ বছরের অভিজ্ঞ কর্মীদের জোর করে ছাঁটাই করছে। অভিযোগ, তাদের জায়গায় তুলনামূলক কম বেতনে নতুন কর্মী বা ফ্রেশার নিয়োগ করা হচ্ছে। একেই তথাকথিত "জুনিয়রাইজেশন স্ট্র্যাটেজি" বলা হচ্ছে। অনেক কর্মীকে জোর করে "স্বেচ্ছা পদত্যাগ"-এর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা আইনত বেআইনি।
সিআইটিইউ-এর আইনি অবস্থান এবং সরকারের ভূমিকা
সিআইটিইউ এই ছাঁটাইকে ১৯৪৭ সালের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউট অ্যাক্ট-এর লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে। তারা টিসিএস-এর বিরুদ্ধে ধারা ২৫ কিউ, ২৫টি, ও ২৫ইউ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সিআইটিইউ কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে যে, যখন টিসিএস কর্মীদের ছাঁটাই করছে, তখন সরকার নীরব থেকেছে। অথচ, বিএসএনএল ৪জি/৫জি, স্পর্শ, পাসপোর্ট, ডিজিটাল ভোটার রোল-এর মতো হাজার কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প টিসিএস-কে দেওয়া হচ্ছে।
আজকের এই দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ভারতীয় আইটি সেক্টরে এআই-এর প্রভাবে চাকরির অনিশ্চয়তার একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।




