" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory দুর্গাপুরে সিআইটিইউ-এর ডাকে শ্রমিক সমাবেশ: শিল্পাঞ্চল রক্ষায় বুকফাটা আর্তনাদ! Durgapur: CITU Calls for Workers' Rally Amidst Industrial Decline, Demanding Revival of Factories and Workers' Rights //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

দুর্গাপুরে সিআইটিইউ-এর ডাকে শ্রমিক সমাবেশ: শিল্পাঞ্চল রক্ষায় বুকফাটা আর্তনাদ! Durgapur: CITU Calls for Workers' Rally Amidst Industrial Decline, Demanding Revival of Factories and Workers' Rights



 

দুর্গাপুর, ৯ সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুরের বুকে আজ যেন এক চাপা কান্নার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। যে শিল্পনগরী একসময় গর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল, কর্মচঞ্চল কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া বের হতো আর হাজার হাজার শ্রমিকের ঘামে সিক্ত হতো এ মাটি, সেই দুর্গাপুর আজ ধুঁকছে। বন্ধ কল-কারখানার নিথর গেট আর বেকারত্বের অভিশাপে বিবর্ণ হয়ে উঠেছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন। এই বুকফাটা যন্ত্রণা আর বঞ্চনার প্রতিবাদে আজ সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন (সিআইটিইউ)-এর ডাকে এক গণ-বিস্ফোরণের সাক্ষী হতে চলেছে দুর্গাপুর। শহরের প্রাণকেন্দ্র লেনিন সরণি এবং কাজী নজরুল এভিনিউ-এর মোড়ে লাখো শ্রমিকের হাহাকার আজ প্রতিধ্বনিত হবে এই সমাবেশে।


সিআইটিইউ-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত পোস্টার আর বিজ্ঞপ্তিতে শুধু দাবি নয়, ফুটে উঠেছে এক অবহেলিত শ্রমিক সমাজের তীব্র ক্ষোভ আর আকুতি। তাদের রক্তভেজা দাবিগুলি যেন দুর্গাপুরের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনারই করুণ আর্তি:

  • দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের (ডিএসপি) কোক ওভেন ব্যাটারি নং ১০ বন্ধ না করা: এ যেন দুর্গাপুরের ফুসফুসকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা! এই ব্যাটারি বন্ধ হলে শুধু চিমনিগুলোই নিভে যাবে না, নিভে যাবে শত শত পরিবারের রুটিরুজির আলো।

  • দুর্গাপুরের অ্যালোয় স্টিল প্ল্যান্ট (এএসপি) পুনরুজ্জীবিত করা: একদা দুর্গাপুরের গৌরব এএসপি আজ নিজেই রুগ্ন। তাকে আবার বাঁচিয়ে তোলার দাবি আসলে অতীতকে ফিরিয়ে আনার, হারানো সম্মানকে পুনরুদ্ধার করার এক আবেগঘন সংগ্রাম।

  • রাস্ট্রীয় ইস্পাত নিগমের দুর্গাপুর ডিসিএল কারখানার আধুনিকীকরণ: জীর্ণ ডিসিএল কারখানার আধুনিকীকরণ শুধু কিছু যন্ত্রপাতির পরিবর্তন নয়, এটা শ্রমিকদের বুকে নতুন করে আশার সঞ্চার করা।

  • দুর্গাপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনের (ডিটিপিএস) ৫০০ মেগাওয়াট ইউনিট চালু করা: এই ইউনিট চালু হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই বাড়বে না, বাড়বে কর্মসংস্থান। অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দিশা দেখতে পাবে অসংখ্য মানুষ।

  • সমস্ত শূন্য সরকারি পদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ: সরকারি পদগুলিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবি যেন বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত তরুণ সমাজের শেষ আশ্রয়।

  • স্থায়ী কাজের জন্য ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করা: ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে শোষণ আর অনিশ্চয়তার জাঁতাকল থেকে মুক্তি চাইছে শ্রমিকরা। তারা চায় সম্মানজনক স্থায়ী কাজ, যেখানে তাদের ঘামের দাম পাওয়া যাবে।

  • স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া: এ যেন নিজের ঘরের ছেলে-মেয়েদের পেটে ভাত জোগানোর আকুতি। স্থানীয়দের কাজের সুযোগ না দিলে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

  • মেম্যাক ও এইচএফসি-র মতো বন্ধ কল-কারখানা ফের চালু করা: এই কারখানাগুলি শুধু ইটের দালান নয়, এগুলি ছিল দুর্গাপুরের ইতিহাসের অংশ, অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন আর জীবনের উৎস। তাদের আবার সচল করার দাবি আসলে এক সমৃদ্ধ অতীতকে ফিরিয়ে আনার মরিয়া চেষ্টা।


সিআইটিইউ নেতৃত্ব এই সমাবেশের মাধ্যমে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলকে রক্ষা করার এবং শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগের তীর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দিকে, যাদের শ্রমিকবিরোধী নীতির কারণে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী কারখানাগুলি আজ বিলুপ্তির পথে। এই সমাবেশ শুধু কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য নয়, এ যেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার, সম্মান ফিরে পাওয়ার, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত দুর্গাপুর গড়ার এক মরণপণ লড়াই।


আজ দুর্গাপুরের বাতাস ভারি হয়ে উঠবে শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতিবাদের বজ্রনির্ঘোষে। তাদের চোখে মুখে জ্বলছে এক নতুন দিনের স্বপ্ন, বুকে জমা হয়েছে এক পাহাড় সমান অভিমান। এই সমাবেশ কি পারবে ঘুমন্ত সরকারকে জাগিয়ে তুলতে? পারবে কি হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে? উত্তর দেবে সময়, কিন্তু আজ দুর্গাপুর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies