কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর: ১৯৭৭ থেকে ২০১১, টানা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে বামফ্রন্ট সরকার। এই দীর্ঘ শাসনকালের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বিতর্ক আজও অমলিন। জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই সরকার ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে শিল্পায়ন এবং কিছু নীতি নির্ধারণ নিয়ে সমালোচনারও সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।
ভূমি সংস্কার ও কৃষি উন্নয়ন:
বামফ্রন্ট সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে মনে করা হয় ভূমি সংস্কারকে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে 'অপারেশন বর্গা'র মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষক এবং বর্গাদারদের জমির অধিকার সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৫ লক্ষ বর্গাদারের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যা তাদের উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করে এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করে।সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছরে ১১ লক্ষ ২৭ হাজার একরের বেশি খাস ও বেআইনি জমি উদ্ধার করে ৩০ লক্ষ গরিব মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, রাজ্যের কৃষি উৎপাদনে বিপুল পরিবর্তন আসে। পশ্চিমবঙ্গ ধান, সবজি এবং মৎস্য উৎপাদনে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে।
পঞ্চায়েতি রাজ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ:
বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে জোর দেয়। ১৯৭৮ সালে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে গ্রামীণ जनता প্রথমবার নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়। এই ব্যবস্থা শুধু গ্রামের উন্নয়নকেই ত্বরান্বিত করেনি, প্রান্তিক মানুষদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়িতও করেছিল।