দুর্গাপুর: মহালয়ার পুণ্যলগ্নে নারীশক্তির জয়গান ও সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের কল্যাণে এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হলো দুর্গাপুরে। শহরের সৃজনী অডিটোরিয়ামে 'অপরাজেয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'-র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী শিল্পীদের বিভিন্ন পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের। শুধু মনোরঞ্জন নয়, এই আয়োজন ছিল সমাজের জন্য কিছু করার এক মহৎ প্রয়াস।
মাউথারগানে হৈমন্তী থেকে সংগীত-এর ছন্দ
সন্ধ্যাটি শুরু হয়েছিল এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। মাউথারগানে হৈমন্তীর সুর যেন এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল শ্রোতাদের। এরপর 'উত্তরণের পথে' নামক একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা মঞ্চে পরিবেশন করেন তাদের বিশেষ ডিঙ্গিত অনুষ্ঠান। গানের তালে তালে সংগীত-এর ছন্দ দর্শকদের মধ্যে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা। এই শিশুরা যারা অপরাজিত ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করে, তাদের পরিবেশনায় ছিল এক সহজাত সারল্য ও প্রতিভা। তাদের প্রতিটি নাচের মুদ্রা যেন বলে দিচ্ছিল, সুযোগ পেলে তারাও নিজেদের প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। এই শিশুদের পরিবেশনা শুধু দর্শকদের আনন্দই দেয়নি, বরং সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাকেও মনে করিয়ে দিয়েছে।
সলিল চৌধুরীকে স্মরণ ও লোকগীতি মিশ্রণ
কেবল নৃত্য নয়, এই অনুষ্ঠানে ছিল সুরের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাহার। শিল্পীরা কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক সলিল চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কালজয়ী কিছু গান পরিবেশন করেন, যা প্রবীণ শ্রোতাদের স্মৃতিকাতর করে তোলে। এছাড়াও, লোকগীতি এবং আধুনিক গানের এক সুমধুর মিশ্রণ তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে। এই ধরনের পরিবেশনা প্রমাণ করে যে, লোকসংস্কৃতি এবং আধুনিক শিল্পকলার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং উভয়েই একসাথে চলতে পারে।
রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের জাদুকরী কণ্ঠ
অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত আকর্ষণ ছিল বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের লাইভ কনসার্ট। মঞ্চে তার আগমন এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে। তার জাদুকরী কণ্ঠের প্রতিটি গান অনুষ্ঠানস্থলে এক ভিন্ন মেজাজ এনে দেয়। সুমধুর সুর এবং আবেগময় পরিবেশনায় রাঘব যেন একাই মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা অডিটোরিয়াম। দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন তার পরিবেশনা।
অপরাজেয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই প্রয়াস শুধু একটি সফল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে, শিল্পকলা এবং সমাজসেবা উভয়েই একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। এই অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তহবিল সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, যা একটি উন্নত সমাজ গঠনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নারী পরিচালিত সংগঠনটি দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছা থাকলে সমাজের কল্যাণ করা সম্ভব এবং নারীরাও যে কোনো বড় উদ্যোগকে সফল করতে পারে।

















