দীর্ঘ চার বছর পর কোনো তালিবান মন্ত্রী ভারত সফরে এলেন। গত ৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সপ্তাহব্যাপী সফরে ভারতে পৌঁছান। ২০২১ সালের আগস্টে তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এটিই প্রথম মন্ত্রী-পর্যায়ের উচ্চস্তরের সফর, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও, এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুত্তাকি জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় নিয়ে পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন, যেখানে বাণিজ্য ও শিল্প খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাঁর সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি
মুত্তাকির এই সফরে মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার দিকে জোর দেওয়া হবে। আলোচনায় নিম্নলিখিত প্রধান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলি নিয়ে কথা হতে পারে:
অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (PTA) সম্প্রসারণ:
বর্তমানে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর আছে, যার অধীনে শুকনো ফল, বাদাম এবং ঔষধি ভেষজ-এর মতো আফগান কৃষি পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়।
আলোচনায় এই শুল্ক ছাড়ের পরিধি এবং চুক্তির অধীনে থাকা পণ্যের তালিকা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি:
২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কাস্টমস এবং লজিস্টিকস প্রক্রিয়াগুলিকে আরও সরল করার মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হতে পারে। আফগানিস্তান থেকে ভারতে প্রধানত কৃষি পণ্য এবং ভারত থেকে যন্ত্রপাতি ও ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানি হয়।
পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ:
ভারত অতীতে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন প্রকল্পে (যেমন: সালমা বাঁধ) ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্য রুটগুলিকে শক্তিশালী করতে নতুন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পগুলিতে ভারতের আরও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা আফগানিস্তানকে ভারত, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ:
মুত্তাকির প্রতিনিধি দলে বাণিজ্য কর্মকর্তারা থাকায়, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য যৌথ উদ্যোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং ভারতে আফগান বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা:
আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির উন্নতির জন্য ভারতের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন সহায়তা সরবরাহ অব্যাহত রাখা এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি।
এই সফর ভারতের আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


