
দুর্গাপুর, ১০ নভেম্বর:
সিপিআই(এম)-এর ডাকে আজ, দশই নভেম্বর, দুর্গাপুর কর্পোরেশন অভিযান কর্মসূচি এক অভূতপূর্ব জনসমাবেশের সাক্ষী থাকল। আজকের সমাবেশে উপচে পড়া জনসমুদ্র আরও একবার স্পষ্ট করে দিল—দুর্গাপুরের মানুষ বদল চাই, ন্যায় চাই, গণতন্ত্র চাই। দীর্ঘদিন ধরে পৌর নির্বাচন না হওয়ার কারণে প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।
বাম নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গাপুর কার্যত চোর, ডাকাত, দুর্বৃত্তদের মৃগয়া ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে দখলদারি ও মানুষের অধিকার হরণ। শহরের পরিষেবা আজ কার্যত ভেঙে পড়েছে, বিপর্যস্ত নাগরিক পরিষেবা ও অব্যবস্থার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই অবস্থার প্রতিবাদ জানাতেই বেলা ২.৩০ মিনিটে কর্পোরেশন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হয়।
এই ‘অভিযান’ থেকে মানুষের একটাই জোরালো দাবি উঠে আসে—
✅ অবিলম্বে দুর্গাপুর পৌর নিগমের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।
✅ অপদার্থ প্রশাসকদের ইস্তাফা দিতে হবে।
মানুষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা প্রশাসক নয়, মানুষের দ্বারা নির্বাচিত বোর্ডই শহরের অধিকার বলে মনে করে।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বর্ষীয়ান বাম নেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী। তিনি পৌর নির্বাচন না হওয়া এবং বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ দাস, তরুণ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সকলেই দুর্গাপুরের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন।
নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মানুষের অধিকার হরণকারী এই দখলদারি আর চলতে দেওয়া হবে না। দুর্গাপুরের মানুষের ন্যায্য দাবিকে শক্তিশালী করতে আজকের সমাবেশ নতুন প্রত্যয় তৈরি করল— গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই হবে, নির্বাচিত বোর্ডই শহরের অধিকার। এই সংকল্প নিয়েই সিপিআই(এম) আগামী দিনে আন্দোলনকে আরও জোরদার করবে।