নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই পরিষ্কার হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কঙ্কালসার চেহারা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা লাগামহীন দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং কাটমানি সংস্কৃতির চাপে জনরোষ থেকে বাঁচতে এবার প্রায় ৩৩ শতাংশ বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না শাসক দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অপশাসনের এক "লজ্জিত স্বীকারোক্তি"।
ছেঁটে ফেলা না কি জনরোষ থেকে পলায়ন?
সিপিআইএম নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে বালি চুরি, কয়লা পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগে যেভাবে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের প্রতিও সাধারণ মানুষের তীব্র ঘৃণা তৈরি হয়েছে।
৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট না দেওয়া প্রমাণ করে যে, কালীঘাটের অন্দরমহল বুঝে গিয়েছে এই মুখগুলো নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া অসম্ভব।
১৫ জন বিধায়ককে নিজেদের নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় পাঠানো আসলে জনরোষ থেকে বাঁচার এক মরিয়া পলায়ন ছাড়া আর কিছুই নয়।
"সবই আসলে সেটিং"
বামপন্থী বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই "শুদ্ধিকরণ" আসলে এক ধরণের আইওয়াশ। একদিকে তৃণমূল যেমন দুর্নীতির দায় ঝাড়তে পুরনো লোক সরাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপিও একই কায়দায় তৃণমূল থেকে যাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সাদরে গ্রহণ করছে। সিপিআইএম-এর বক্তব্য, "পচা লিম্ব" কাটার নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে নিজের গদি বাঁচাতে চাইছেন, কিন্তু যে গাছের শিকড়ই দুর্নীতিতে পচে গেছে, তার ডাল ছাঁটাই করে কোনো লাভ হবে না।
বিকল্পের সন্ধানে বাংলা
রাজ্যের সাধারণ মানুষ আজ বুঝে গেছেন যে তৃণমূল এবং বিজেপি আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ। একদিকে যখন শাসক দল টিকিট কেটে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে তখন বামপন্থীরা মানুষের রুটি-রুজির অধিকার, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সিপিআইএম-এর স্পষ্ট বার্তা: সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে। ৭৪ জন বা ১০০ জন বিধায়ক সরালেও তৃণমূলের ডিএনএ-তে মিশে থাকা দুর্নীতি দূর হবে না। বাংলার মানুষ এবার এই "চোর তাড়াও, বাংলা বাঁচাও" স্লোগানকে পাথেয় করেই বিকল্প পথ বেছে নেবে।


