মুম্বই | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
বারামতী বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক গভীর অস্থিরতা। একদিকে রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ, আর অন্যদিকে শাসক জোট 'মহাযুতি'-র অন্দরে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ ফাটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পওয়ারের এই আকস্মিক বিদায় শুধু একটি দলের ক্ষতি নয়, বরং একনাথ শিন্ডে ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থায়িত্বের ওপরও এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে।
ভেঙে চুরমার বিমান, সঙ্গে কি ভাঙছে জোটের রসায়নও?
আজ সকালে বারামতীতে যখন অজিত পওয়ারের চার্টার্ড বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, সেই মুহূর্তে তিনি স্থানীয় জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যাচ্ছিলেন। এনসিপি (অজিত গোষ্ঠী) সূত্র বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং বাজেট বরাদ্দ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ও বিজেপির সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছিল।
জোটের মধ্যে যে তিনটি বড় ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে:
বাজেট ও কৃতিত্বের লড়াই: অজিত পওয়ার অর্থমন্ত্রী হিসেবে 'লাডকি বহিন যোজনা'র প্রচার নিজের মতো করতে চেয়েছিলেন, যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডের শিবিরের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়। অজিত পওয়ার বিজ্ঞাপনে 'মুখ্যমন্ত্রী' শব্দটি সরিয়ে শুধু 'মাজি লাডকি বহিন' ব্যবহার করায় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন শিবসেনা মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেশাই।
আসন সমঝোতা ও বিএমসি নির্বাচন: আসন্ন বিএমসি (BMC) নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি বনাম অজিত পওয়ারের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির মধ্যে এক প্রকার স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। দেবেন্দ্র ফড়নবিশ আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, "জোটের মর্যাদা রক্ষা না করলে ভেবে দেখতে হবে।"
নেতৃত্বের শূন্যতা: অজিত পওয়ার ছিলেন মহাযুতি জোটের এক বড় যোগসূত্র। তাঁর প্রয়াণের পর এনসিপি-র বিধায়করা এখন কী করবেন—তাঁরা কি বিজেপিতে মিশে যাবেন, নাকি আবার শরদ পওয়ারের শিবিরে ফিরে যাবেন—তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে
ফড়নবিশ বনাম শিন্ডে: নেপথ্যের সংঘাত আরও তীব্র
অজিত পওয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও একনাথ শিন্ডে একসঙ্গে শোকবার্তা দিলেও, রাজধানীর বাতাসে অন্য খবর ভাসছে। শোনা যাচ্ছে, এনসিপি-র হাতে থাকা অর্থ ও আবগারি দপ্তরের দখল নিতে ইতিমধ্যেই দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। শিন্ডে শিবির চাইছে পওয়ারের দপ্তরগুলো নিজেদের আয়ত্তে রাখতে, অন্যদিকে বিজেপি চাইছে সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে।
'দাদা'র শেষ টুইট ও অসমাপ্ত লড়াই
মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে সকাল ৮:৫৭ মিনিটে লালা লাজপত রায়ের জন্মজয়ন্তীতে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন অজিত পওয়ার। বারামতীর মাটিতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে যে জেদ নিয়ে তিনি বেরিয়েছিলেন, সেই সফর আজ রক্তে ভেজা রানওয়েতেই শেষ হয়ে গেল।
"অজিত দাদা ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি প্রশাসন চালাতেন লোহার হাতে। তাঁর অনুপস্থিতিতে এই জোটের ইঞ্জিনগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাবে।" — এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মন্তব্য।
পরবর্তী ধাপ কী?
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই জরুরি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। অজিত পওয়ারের প্রয়াণে বিধানসভায় এনসিপি-র শক্তি এখন কার হাতে থাকবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। যদি বিধায়কদের বড় অংশ শরদ পওয়ারের কাছে ফিরে যান, তবে একনাথ শিন্ডে সরকারের পতন কি অনিবার্য?




