নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: জানুয়ারি মাস মানেই স্বামী বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মমাস। এই দুই মনিষীর আদর্শকে সামনে রেখেই দুর্গাপুরের অন্যতম প্রাচীন সামাজিক সংগঠন ‘দুর্গাপুর হিরোজ ক্লাব’ গ্রহণ করেছে মাসব্যাপী এক গুচ্ছ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আজকের মোবাইল-বন্দি শৈশবকে প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা।
বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় উপচে পড়া ভিড়
ক্লাবের অন্যতম আয়োজক জানান, এ বছর প্রায় ১৭০ জন প্রতিযোগী ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’ সহ বিভিন্ন বিভাগে বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছে বিখ্যাত স্টেশনারি সংস্থা ক্যামলিন (Camelin)। তাঁরা প্রতিযোগিতার জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। আয়োজকদের মতে, “বাচ্চারা এখন ঘরের কোণে বসে মোবাইল আর ইনডোর গেমে মগ্ন। তাদের একটু প্রকৃতির খোলা হাওয়ায় নিয়ে আসা এবং মনিষীদের জীবনী সম্পর্কে সচেতন করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”
আগামী আকর্ষণ: পুষ্প প্রদর্শনী ও ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা
কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ে আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মেগা পুষ্প প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। এ বছর এই প্রদর্শনীতে নতুন সংযোজন হিসেবে থাকছে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও ওয়ার্কশপ। আগামী ২৫ তারিখ বিকেল ৫:৩০ টায় বিশেষ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বন্যপ্রাণী (বিশেষত গ্রে উলফ বা ধূসর নেকড়ে) এবং তাদের গতিবিধি নিয়ে তথ্যমূলক চিত্র তুলে ধরবে ‘উইংস’ (Wings) নামক একটি পরিবেশপ্রেমী সংস্থা।
সামাজিক ও রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ডে নতুন দিশা
হিরোজ ক্লাব কেবল খেলাধুলা বা উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ক্লাবের তরফে অনূর্ধ্ব ১৫ এবং অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দল নিয়মিত অনুশীলন করে এবং অনেক খেলোয়াড় ইতিমধেই কলকাতার বিভিন্ন ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া দুর্গাপুরের তরুণ প্রজন্মকে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বা সাইকেল র্যালির মতো রোমাঞ্চকর কাজের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠান চলাকালীন দিনগুলোতে এলাকার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক (DSP, ASP), দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (DMC) ও এডিডিএ (ADDA)-র আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে আয়োজকদের উৎসাহিত করবেন বলে জানা গেছে। অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও, স্থানীয় মানুষের উৎসাহ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
দুর্গাপুরবাসীর কাছে এই মাসব্যাপী উৎসব এখন কেবল একটি ক্লাবের অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বড় সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।










