লন্ডন/কারাকাস, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ — ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এবং দেশটির ওপর সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তিনি এই অভিযানকে একটি "অযৌক্তিক এবং অবৈধ আক্রমণ" হিসেবে বর্ণনা করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
‘এটি তেলের জন্য নগ্ন সাম্রাজ্যবাদ’
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে করবিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত ভেনিজুয়েলার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে তেল খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন:
"যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তা কোনো মানবিক সহায়তা বা গণতন্ত্রের লড়াই নয়। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর সামরিক আধিপত্য বিস্তারের নগ্ন প্রয়াস।
1 এই আগ্রাসনের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।"
করবিন বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকেও এই অভিযানের নিন্দা জানানোর অনুরোধ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এই অভিযান ভবিষ্যতে বিশ্ব শান্তির জন্য এক ভয়াবহ নজির হয়ে থাকবে।
পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ: কী ঘটেছে কারাকাসে?
৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোররাতে মার্কিন 'ডেল্টা ফোর্স' হেলিকপ্টারযোগে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালায়। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ঘটনাবলি:
অভিযোগ: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ‘মাদক পাচারকারী’ হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি করেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা: ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ভেনিজুয়েলার প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো "পরিচালনা" করবে।
আদালতের অবস্থান: সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হলে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং এই গ্রেপ্তারকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন।
বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
জেরেমি করবিনের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল এবং মেক্সিকো এই সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে আন্তর্জাতিক আইনের "মারাত্মক লঙ্ঘন" এবং একটি "বিপজ্জনক নজির" বলে অভিহিত করেছেন।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আশঙ্কা করছে যে, এই ঘটনা ১৯৮৯ সালের পানামা আক্রমণের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে এবং পুরো অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।


