হাভানা, কিউবা | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন "সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন" এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘অপহরণের’ প্রতিবাদে কিউবার রাজধানী হাভানা আজ এক বিশাল মিছিলে প্রকম্পিত হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের অদূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘অ্যান্টি-ইম্পেরিয়ালিস্ট প্ল্যাটফর্মে’ আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল এবং হাজার হাজার কিউবান নাগরিক অংশ নেন।
সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-কানেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে একটি জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা
প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-কানেল বলেন, "কিউবা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং একে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য করছে। এটি শান্তির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আমেরিকার ওপর একটি অপরাধমূলক হামলা এবং একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জাতির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।"
মুনরো ডকট্রিন প্রত্যাখ্যান
সাম্রাজ্যবাদীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "না সাহেবরা, এটি আপনাদের পেছনের উঠোন বা কোনো বিরোধপূর্ণ জমি নয়। আমরা ‘মুনরো ডকট্রিন’ বা কোনো সেকেলে রাজা-সম্রাটদের শাসন স্বীকার করি না। বলিভারের মাটি পবিত্র; এই জনগণের ওপর আক্রমণ মানে লাতিন আমেরিকার সমস্ত জনগণের ওপর আক্রমণ।"
গাজার পরিস্থিতির সাথে তুলনা
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গাজার সাথে তুলনা করে বলেন, "এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদকে মেনে নেওয়া যায় না। এর তুলনা কেবল গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি জায়নবাদীদের দ্বারা সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথেই হতে পারে।"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন:
একটি বৈধ সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই ‘বেআইনি ও অনৈতিক অপহরণের’ বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে জোরপূর্বক দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো নৈতিক বা আইনি অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর শারীরিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের।
বক্তব্যের শেষে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে বলেন, "এখন আর অর্ধেক সমাধানের সময় নয়; এখন সময় ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। আমরা এই ‘সাত মাইলের দানবকে’ (যুক্তরাষ্ট্র) পথ ছাড়বো না।"





