" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory বরফমাখা রেললাইন আর এক ভ্লগারের জীবনযুদ্ধ: কানাডার নির্জন পথে ৫ দিনের এক মহাকাব্য //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

বরফমাখা রেললাইন আর এক ভ্লগারের জীবনযুদ্ধ: কানাডার নির্জন পথে ৫ দিনের এক মহাকাব্য

 



বিশেষ প্রতিবেদন | টরন্টো

কানাডার ভ্যাঙ্কুভার থেকে টরন্টো—৪,৪৬৬ কিলোমিটারের এক দীর্ঘ পথ। বাইরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি নিচে, আর ট্রেনের জানালার ওপাশে মাইলের পর মাইল আদিগন্ত সাদা নিঃসঙ্গতা। এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মাঝে যখন 'দ্য ক্যানাডিয়ান' (The Canadian) ট্রেনটি ছুটে চলে, তখন তার ভেতরে বসে থাকা একজন ভারতীয় ভ্লগারের মনে চলে অন্য এক লড়াই। এটি কেবল বিলাসবহুল ভ্রমণের গল্প নয়, বরং এক মধ্যবিত্ত তরুণের স্বপ্নকে ছোঁয়ার তীব্র জেদ।

বিলাসবহুল ট্রেনের আড়ালে এক চিলতে অনিশ্চয়তা

ভ্যাঙ্কুভারের প্যাসিফিক সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে যখন ট্রেনটি ছাড়ে, তখন ভ্লগারের মনে ছিল চাপা উত্তেজনা। ৩৩শ কিলোমিটারের এই যাত্রা শেষ হতে সময় লাগবে ৫ দিন। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় আসল চ্যালেঞ্জ। কানাডায় মালবাহী ট্রেনের অগ্রাধিকার বেশি হওয়ায় মাঝপথেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীবাহী ট্রেনটিকে। একে একে যখন মালবাহী ট্রেনগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তখন ভ্লগারের মনে বাজতে থাকে বিপদের ঘণ্টা। টরন্টো পৌঁছাতে দেরি হওয়া মানেই তাঁর পরবর্তী ফ্লাইট মিস হওয়া, যার টিকিট রিফান্ড পাওয়া অসম্ভব। এই উৎকণ্ঠা যেন জীবনের প্রতিটি বাঁকে থাকা অনিশ্চয়তারই এক প্রতিচ্ছবি।



স্মৃতির জানলায় ফেলে আসা অতীত

যাত্রার এক পর্যায়ে ভ্লগার ফিরে যান তাঁর অতীতে। তিনি স্মরণ করেন সেই দিনগুলোর কথা যখন অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার মতো সামর্থ্য তাঁর ছিল না, কিন্তু দর্শকদের অফুরন্ত ভালোবাসা আর অনুদান তাঁকে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছিল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,



"দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে এই ট্রেন জার্নি করার একটাই উদ্দেশ্য—আমি চাই দর্শকদের এমন কিছু দেখাতে যা এর আগে কেউ সাহস করেনি। হয়তো ৪-৫ বছর পর আমার এই ইউটিউব চ্যানেল থাকবে না, কিন্তু এই কাজগুলো মানুষের হৃদয়ে থেকে যাবে।" এই কথাগুলো কেবল একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নয়, বরং একজন শিল্পীর হাহাকার, যিনি নিজের শেষ সম্বলটুকু বাজি রেখে নতুন কিছু তৈরি করতে চান।


মুজ লেকের সেই নিস্তব্ধ সৌন্দর্য


ট্রেন যখন 'মুজ লেক' (Moose Lake) পার হচ্ছিল, তখন দেখা গেল প্রকৃতির এক রুক্ষ অথচ মায়াবী রূপ। বিশালাকার হ্রদটি সম্পূর্ণ জমে সাদা পাথর হয়ে আছে। ট্রেনের অবজারভেশন কারের কাঁচের ভেতর দিয়ে যখন সেই জমাটবদ্ধ জলরাশি দেখা যায়, তখন মনে হয় সময় যেন সেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে। এই নিস্তব্ধতা মানুষকে বাধ্য করে নিজের ভেতরে তাকাতে। যাত্রী ডাক্তার তাঁর ভ্লগে দেখিয়েছেন, ট্রেনের ভেতরে ডাইনিং কারে অচেনা মানুষের সাথে বসে খাওয়ার সময় কীভাবে এক অজানা সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়, যেখানে নেই কোনো জাত-পাত বা ধর্মের ভেদাভেদ।



সময়ের সাথে রেস: স্বপ্ন যখন ট্র্যাজেডির পথে

জ্যাসপার স্টেশনে নেমে যখন তাঁরা দেখলেন ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা পিছিয়ে আছে, তখন উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছায়। টরন্টোতে গিয়ে ফ্লাইট ধরার আশা যখন ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন বিলাসবহুল কেবিনের আরামদায়ক বিছানাও যেন কাটার মতো বিঁধতে থাকে। জীবনের লক্ষ্য বা গন্তব্য যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন চারপাশের বিলাসিতাও যে অর্থহীন—তা এই ভিডিওটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।



৫ দিনের এই যাত্রা শেষ হতে পারে, কিন্তু সেই হিমায়িত হ্রদ, ট্রেনের চাকার ছন্দময় শব্দ আর একজন ভারতীয় ইউটিউবারের আত্মত্যাগের গল্প অনেক দিন মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। এটি কেবল একটি ভ্রমণ ভিডিও নয়, এটি জীবনের প্রতিচ্ছবি—যেখানে সৌন্দর্য আর সংগ্রাম একই সমান্তরালে হাত ধরাধরি করে চলে।


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies