তেহরান ব্যুরো | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকস্মিকভাবে নিজেদের আকাশসীমা (Tehran FIR) অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি NOTAM (নোটিশ টু এয়ারমেন) জারির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়।
মূল ঘটনাবলী:
আকাশসীমা বিধি-নিষেধ: জারিকৃত নোটিশ অনুযায়ী, পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র তেহরানগামী নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিশেষ অনুমতির সাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সামরিক সতর্কবার্তা: যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ দর্শায়নি, তবে বৈশ্বিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সম্ভাব্য মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনায় তারা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। পেন্টাগন ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
বিমানের রুট পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
ইরানের এই সিদ্ধান্তের পরপরই বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং লুফথানসা সহ বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করে ইরানকে এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার ফ্লাইটগুলোর সময়সীমা ও জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত: সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করা এবং জিপিএস স্পুফিংয়ের (GPS Spoofing) রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অঞ্চলটি একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
ইরানের অভ্যন্তরে ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে তেহরান তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। এদিকে, সৌদি আরব এবং জর্ডান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো পক্ষকেই তারা তাদের আকাশসীমা যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।


