জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ | যুক্তরাষ্ট্র – আজ পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক জায়ান্ট 'ভেরাইজন'-এর পরিষেবায় এক নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে আসে। সকাল থেকে উপকূলীয় শহর থেকে শুরু করে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ গ্রাহক হঠাৎ করেই দেখেন তাদের ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক নেই। অধিকাংশ আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে 'SOS' সিগন্যাল। এই দীর্ঘ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেটে জল্পনা শুরু হয় যে, ইরানের কোনো সাইবার হামলার কারণে এই অবস্থা কি না—তবে ভেরাইজন এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
কেন এই বিপর্যয়?
এখনও ভেরাইজন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এটি কোনো বিদেশি হামলা নয় বরং নেটওয়ার্কের মূল পরিকাঠামোতে কারিগরি ত্রুটির (technical glitch) কারণে হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, কোনো সফটওয়্যার আপডেট বা ফাইবার অপটিক লাইনের সমস্যার কারণে এমনটা ঘটতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের নাম জড়িয়ে গুজব ছড়ালেও সাইবার বিশেষজ্ঞরা একে "ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
জনজীবনে প্রভাব:
এই নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউটের কারণে সকালে অফিসগামী মানুষ এবং সাধারণ গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েন। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করা, নেভিগেশন ম্যাপ দেখা বা জরুরি টেক্সট পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ তাদের অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান। ডাউndetector (Downdetector.com) এর তথ্যমতে, এক পর্যায়ে অভিযোগের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
সুখবর: ফিরছে নেটওয়ার্ক
অবশেষে কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর ভেরাইজন ইঞ্জিনিয়াররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, তারা ধীরে ধীরে পরিষেবা পুনরুদ্ধার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং আটলান্টার মতো বড় শহরগুলোতে ইতোমধ্যেই ৮০ শতাংশের বেশি নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
ভেরাইজনের বক্তব্য:
একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভেরাইজন বলেছে, "আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা দিনরাত কাজ করছেন। আমরা জানি গ্রাহকদের কী পরিমাণ ভোগান্তি হয়েছে, সেজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। খুব দ্রুতই দেশজুড়ে পরিষেবা ১০০ শতাংশ স্বাভাবিক হবে।" গ্রাহকদের তাদের ফোন একবার রিস্টার্ট (Restart) করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোম্পানিটি।
২০২৪ সালেও ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর সময় এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল ভেরাইজন। তবে এবারের ঘটনাটি এফসিসি-র (FCC) কড়া নজরদারিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


