নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
আজ ১৭ জানুয়ারি, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কিংবদন্তি জননেতা জ্যোতি বসুর ১৬তম প্রয়াণ দিবস। এই বিশেষ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা প্রয়াত জননেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের শপথ গ্রহণ করেছেন।
‘বর্বরতা’ ও ‘প্রতিহিংসার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার বামপন্থীরা
বাম শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, দেশে বর্তমানে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি চরম সীমায় পৌঁছেছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাম্প্রতিক কিছু যন্ত্রণাদায়ক ঘটনার উল্লেখ , যার মধ্যে রয়েছে:
মণিপুর থেকে ভীমা কোরেগাঁও: দলিত ও আদিবাসীদের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ।
হাথরাস, উন্নাও থেকে সন্দেশখালি ও আরজি কর: নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের প্রসঙ্গ।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ: গ্রাহাম স্টেইনস ও আখলাক হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি।
পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা: গুরগাঁও থেকে ওড়িশা—শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনার ছবি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বামপন্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক রণকৌশলই বিজেপিকে বাংলায় পা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে, যা রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
১৭ জানুয়ারির শপথ
জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবসে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটসহ রাজ্যের জেলা কার্যালয়গুলোতে লাল পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাম নেতৃত্বের দাবি, জ্যোতি বসু যে অসাম্প্রদায়িক এবং উন্নত বাংলার স্বপ্ন দেখতেন, তা আজ বিপন্ন। তাই আজকের দিনে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো:
সমস্ত প্রকার বর্বরতা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে শপথ গ্রহণ।
ধর্মীয় হিংসার রাজনীতির অবসান ঘটানো।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
নিউটাউনে নবনির্মিত ‘জ্যোতি বসু সমাজবিজ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্র’-এ দিনটি উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত নেতৃত্ব জানান, জ্যোতি বসুর আদর্শকে পাথেয় করেই আগামী দিনে বাংলার মেহনতী মানুষ ও যুব সমাজ এই ‘অন্ধকার সময়ের’ বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।


