নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: পেটের টানে যারা ভিটেমাটি ছেড়ে ভিনদেশে পাড়ি দেন, তাদের কপালে কি শুধুই জুটবে লাঞ্ছনা আর মৃত্যু? নাকি এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা? এই জ্বলন্ত প্রশ্ন তুলেই আগামী ১৩ই জানুয়ারি নদিয়ার পলাশিপাড়ায় আয়োজিত হতে চলেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’-এর দ্বিতীয় জেলা সম্মেলন। তবে এবারের সম্মেলন কেবল দাবিদাওয়ার তালিকা নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক আবেগী প্রতিবাদের মঞ্চ।
পোস্টারের বুকে আঁকা মাথায় ইটের বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকের ছবিটি যেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের না বলা যন্ত্রণার প্রতীক। যারা অন্যের প্রাসাদ গড়তে গিয়ে নিজেদের সুখ বিসর্জন দেন, তাদের ওপর নেমে আসা বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধেই এবার গর্জে ওঠার ডাক দেওয়া হয়েছে।
তবে এবারের সম্মেলনের বাতাবরণকে সবচেয়ে বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলেছে একটি নাম—‘তামান্না’। পোস্টারের ওপর জ্বলজ্বল করছে সেই দাবি—"পরিযায়ী শ্রমিক কন্যা তামান্নার খুনের বিচার চাই"। তামান্না আজ নেই, কিন্তু তার মর্মান্তিক পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা শ্রমিক সমাজকে। প্রতিটি শ্রমিকের চোখে আজ একটাই প্রশ্ন—আর কত তামান্নাকে অকালে ঝরে যেতে হবে? কবে থামবে এই বর্বরতা?
আগামী ১৩ই জানুয়ারি, সকাল ১১টায় নদিয়ার পলাশিপাড়ার 'কমরেড পশুপতি প্রামাণিক ও পরিতোষ ভৌমিক নগরে' (শহীদ জুয়েল রানা দীপু দাস মঞ্চ) সমবেত হবেন জেলার অসংখ্য মেহনতি মানুষ। তাদের হাতের মুঠোয় ধরা থাকবে প্রতিবাদের নিশান, আর কণ্ঠে থাকবে একটাই স্লোগান—নিরাপত্তা চাই, বিচার চাই।
আয়োজকরা জানাচ্ছেন, এই সম্মেলন কেবল একটি সাংগঠনিক সভা নয়, এটি ভিনরাজ্যে কর্মরত প্রতিটি অসহায় শ্রমিকের আর্তনাদকে এক শক্তিশালী স্বরে পরিণত করার লড়াই। তামান্নার হত্যার বিচার আর শ্রমিকদের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে পলাশিপাড়ার আকাশ-বাতাস মুখরিত করতে প্রস্তুত নদিয়া।


