" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory রক্তস্নাত রাজপথ, তবু রুদ্ধ হয়নি কণ্ঠ: সফদর হাশমি ও এক অমর দ্রোহের আখ্যান //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

রক্তস্নাত রাজপথ, তবু রুদ্ধ হয়নি কণ্ঠ: সফদর হাশমি ও এক অমর দ্রোহের আখ্যান

 



নয়াদিল্লি, ২ জানুয়ারি ২০২৬ — আজকের সকালটা কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি ভারতীয় নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসের এক বিষাদমাখা হাহাকার। ৩৭ বছর আগে ঠিক আজকের দিনেই দিল্লির এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সফদর হাশমি। কিন্তু তিনি কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছেন? ঝান্ডাপুরের সেই ধুলোবালি মাখা রাস্তায় আজও কান পাতলে শোনা যায় এক অমর স্লোগান— "হাল্লা বোল!"

অসমাপ্ত নাটকের সেই অভিশপ্ত দুপুর

১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি। গাজিয়াবাদের শাহিবাবাদ শিল্পাঞ্চলের ঝান্ডাপুর গ্রাম। শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে তখন চারদিকে উত্তাল হাওয়া। সফদর হাশমি এবং তাঁর নাট্যদল 'জন নাট্য মঞ্চ' (জনম) খোলা আকাশের নিচে অভিনয় করছিলেন তাঁদের বিখ্যাত নাটক 'হাল্লা বোল'। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভিড়ে ঠাসা সেই চত্বর হঠাৎই নরকে পরিণত হয়।

তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠি, রড আর পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হন সফদর। তাঁর অপরাধ ছিল একটাই— তিনি মঞ্চের জৌলুস ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতে রাস্তায় নেমেছিলেন। পরের দিন, ২ জানুয়ারি, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী।

মলয়শ্রী হাশমি: এক বুক চাপা শোক আর অপরাজেয় জেদ

সফদরের মৃত্যু শোক নয়, বরং জন্ম দিয়েছিল এক অভূতপূর্ব প্রতিরোধের। ৪ জানুয়ারি, অর্থাৎ সফদরের প্রয়াণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর স্ত্রী ও সহযোদ্ধা মলয়শ্রী হাশমি ফিরে গিয়েছিলেন সেই একই বধ্যভূমিতে। যে মাটিতে তখনও সফদরের রক্ত লেগে ছিল, সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি অসমাপ্ত নাটকটি শেষ করেন।

দিল্লির রাস্তায় সেদিন কোনো শোক মিছিল হয়নি, হয়েছিল এক রণধ্বনি। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মলয়শ্রী প্রমাণ করেছিলেন— শিল্পীকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তাঁর শিল্পকে নয়।


জন নাট্য মঞ্চ: মানুষের জন্য মানুষের থিয়েটার

১৯৭৩ সালে সফদরের নেতৃত্বে শুরু হওয়া 'জনম' ভারতীয় নাট্যচর্চায় এক আমূল পরিবর্তন আনে। থিয়েটারকে টিকিট আর অডিটোরিয়ামের গণ্ডি থেকে বের করে কারখানার গেটে আর বস্তির মোড়ে পৌঁছে দেন তিনি।

কালজয়ী সৃষ্টিবিষয়বস্তু
মেশিন (Machine)শ্রমিকের যন্ত্র হয়ে ওঠা আর পুঁজিবাদের শোষণ।
অওরাত (Aurat)নারীর অধিকার ও প্রতিদিনের লড়াই।
হাল্লা বোল (Halla Bol)শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য ও সংহতি।
রাজা কা বাজারাজনৈতিক দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের অসহায়তা।

আজকের সফদর: পথেই তাঁর মুক্তি

আজ ভারতের প্রতিটি কোণে যখনই কোনো ছাত্র-যুব বা শ্রমিক নিজের অধিকারের দাবিতে সরব হন, সেখানেই সফদর জীবিত থাকেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসটি আজ ভারতে 'জাতীয় পথনাটক দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

সফদর হাশমি আমাদের শিখিয়েছেন, পথনাটক কেবল বিনোদন নয়, এটি শোষিতের হাতিয়ার। তাঁর চশমা ভাঙা হয়েছিল, মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁর স্বপ্নগুলো আজ লাখো কণ্ঠে অনুরণিত হচ্ছে। তাই আজও রাজপথে কোনো নাটকের দল যখন ঢোল বাজিয়ে বৃত্ত তৈরি করে, তখন বোঝা যায়— সফদর মরেননি, তিনি কেবল মঞ্চ বদলেছেন।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies