কারাকাস, ভেনেজুয়েলা — জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তার সাম্প্রতিক এক নীতি-নির্ধারণী ভাষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চীন, রাশিয়া, কিউবা এবং ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম অধিকার। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার তীব্র চাপের মুখে তিনি এই সাহসী অবস্থান গ্রহণ করলেন।
সার্বভৌমত্ব ও জ্বালানি নীতি
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় প্রস্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে দেশের হাল ধরেছেন। কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্যালেস থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সহযোগিতা কোনো বিদেশি শক্তির আদেশে পরিচালিত হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অবশ্যই "শালীনতা, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার" (Decency, Dignity and Independence) ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
রদ্রিগেজ তার ভাষণে উল্লেখ করেন:
"আমরা একটি ভয়াবহ আগ্রাসন এবং বিদেশি হুমকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা আমাদের সার্বভৌমত্বকে সংকুচিত করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত যে ভেনেজুয়েলা একটি স্বাধীন দেশ। আমাদের অধিকার রয়েছে আমাদের পুরনো মিত্রদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার, যারা সংকটের সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।"
ওয়াশিংটনের কঠিন শর্ত এবং তেলের রাজনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ওপর নতুন করে শর্ত আরোপ করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কারাকাস যদি তার তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে চায় এবং মার্কিন বাজারে তেল বিক্রি করতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই চীন, রাশিয়া, ইরান এবং কিউবার সাথে সমস্ত সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার মাটিতে থাকা রুশ ও কিউবান উপদেষ্টাদের বহিষ্কারের দাবি তুলেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভাণ্ডারের অধিকারী। বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল বন্দরে আটকে আছে। রদ্রিগেজ একদিকে যেমন চীন-রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলছেন, অন্যদিকে তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজ একটি জটিল "ডিপ্লোম্যাটিক ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট" বা কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি একদিকে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন (Chavista Base) ধরে রাখতে সার্বভৌমত্বের কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে দেশের দেউলিয়া দশা কাটাতে বৈশ্বিক বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার পথ খুঁজছেন।
প্রতিবেদনের মূল সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বর্তমান স্থিতি |
| প্রধান মিত্র | চীন, রাশিয়া, কিউবা, ইরান |
| মার্কিন অবস্থান | সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব |
| রদ্রিগেজের অবস্থান | সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি |
| জ্বালানি কৌশল | আগ্রাসনের মুখেও বহুমুখী জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা |
ভেনেজুয়েলার এই অনমনীয় অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে কিনা, নাকি কারাকাসের ওপর চাপের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।


